রীতা রানী কানু :
এক সপ্তাহ আগে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চড়া দামে তরমুজ বিক্রি হলেও দাম এখন অর্ধেকে নেমে ৪০ টাকা কেজি হলেও ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্রেতারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ ফুলবাড়ী উপজেলার হাটবাজারে আসছে। এতে বেড়েছে তরমুজের সরবরাহ। কমেছে দাম। এরপরও মিলছে না পর্যাপ্ত ক্রেতা। ক্রেতার অভাবে মৌসুমী এ ফলের পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে পৌর এলাকার নিমতলা মোড়ের তরমুজ পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, আকার ও প্রকার ভেদে প্রতি কেজি তরমুজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই তরমুজ গত এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
নিমতলা মোড়ের তরমুজ পট্টির তরমুজ ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম ও সাদেক আল সারওয়ার্দী বলেন, গত ১৩ দিন আগে খুলনা ও সাতক্ষিরা থেকে তিন ট্রাক তরমুজ ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে এনেছিলেন। এরসাথে রয়েছে পরিবহণ খরচ। কিন্তু এখন কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে আসায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা।
একই এলাকার আরেক তরমুজ ব্যবসায়ী শ্রী মন্টু রায় বলেন, বর্তমানে আড়তে আমদানি সরবরাহ বেশি এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তরমুজের দাম কমেছে কেজিতে আকার ও প্রকার ভেদে ১৫ থেকে ১৫ টাকা। ফলে বর্তমানে প্রতিকেজি তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। বিক্রি ও দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে অনেক ব্যবসায়ীর পূঁজি হারিয়ে যাবে। তরমুজ কিনতে আসা রাজমিস্ত্রি বাবু ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে তরমুজের দাম বেশি ছিল। এখন দাম কম হওয়ায় ৪০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি ওজনের একটা তরমুজ কিনেছেন।’ তরমুজ কিনতে আসা আরও এক গৃহবধূ শিরিন আক্তার বলেন, অপরিপক্ব তরমুজে ছেয়ে গেছে পুরো বাজার, যার কারণে তরমুজ কেনার আগ্রহ হারিয়েছেন ক্রেতারা। এর মধ্যে দেখেশুণে কিনতে হচ্ছে। তবে দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে একটু স্বস্তি এসেছে। ৩৫ টাকা কেজিদরে ৪ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তিনি কিনেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রম্নম্মান আক্তার বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে তরমুজ চাষাবাদ না হলেও ব্যক্তিবিশেষে কিছু তরমুজ আবাদ করে থাকেন। তবে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরমুজ এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এ মুহুর্তে বাজারে এ ফলটির সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে আসেছে। ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, প্রথম থেকেই তরমুজের বাজারে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারী ছিল। যাতে কেউ অযাচিতভাবে দাম বাড়াতে না পারে। তবে সরবরাহ বাড়ায় তরমুজের দাম কমে এসেছে।
ফুলবাড়ীতে তরমুজের দাম অর্ধেকে নেমে ৪০ টাকা কেজি হলেও ক্রেতা মিলছে না, আর্থিক লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা
মার্চ ২৯, ২০২৪
































