রীতা রান কানু :
গবাদি পশু দিয়ে জমি চাষ, সনাতনী পদ্ধতিতে পানি সেচ, কাস্তে দিয়ে ধান কেটে গবাদি পশুকে দিয়ে মাড়াই করা ও মাটির খলায় ধান শুকানো ছিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলাকার বোরো ধান চাষাবাদের পদ্ধতি। এতে কৃষকদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম হতো, চাষাবাদে সময়ও বেশি লাগত।
কয়েক দশক আগে জমি চাষে ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার, পানি সেচের পাম্প ও ধানের মাড়াইকল বের হওয়ায় অনেকটাই সহজ হয় ধান চাষাবাদ। স্বল্প শ্রমে জমি চাষাবাদের সুফল পাওয়া শুরু করেন কৃষক। তবে ধান কাটা হতো কাস্তে দিয়েই। এরপর গত কয়েক বছর হয় একসঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্র হারভেস্টার আমদানি করায় আরও সহজ হয় ধান চাষ। তবে ধান শুকানো হতো সেই চিরাচরিত পদ্ধতি অনুযায়ী মাটির খলায় কিংবা নিকটবর্তী সড়কের ওপর।
দুই-তিন বছর ধরে মাটির খলায় ধান শুকানোর চিরাচরিত পদ্ধতির পরিবর্তন এসেছে। প্লাস্টিকের নেটের (ছোট ছিদ্রের বিশেষ জাল) ওপর ধান শুকানো শুরু হয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলায়। এতে কৃষকদের সময় ও শ্রমি সাশ্রয় হচ্ছে। ধানের গুণগত মানও ভালো থাকছে। ৫-৬ হাত উচ্চতার প্রতি ফুট নেট ৫০-৬০ টাকা করে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাটির খলার চেয়ে প্লাস্টিকের নেটের ওপর ধান শুকানো সুবিধা। তাই নেটে ধান শুকানোর আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
কৃষকরা জানিয়েছেন, ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পাশের অনাবাদি পতিত জমিতে বা বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে মাটি ভরাট করে খলা তৈরি করে ধান শুকানো হতো। বৃষ্টি হলে খলায় ধান শুকানো কঠিন হয়। হঠাৎ করে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে খলা থেকে দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকের ধান পানিতে ভিজে যেত। এ ছাড়া মাটি থেকে ধান তুলতে অধিক সময় নষ্ট হয়। খলায় ধান শুকালে ধানে ধুলোবালি থাকে। এতে ধানের রঙ পরিবর্তন হয়ে গেলে কাঙ্খিত দাম পাওয়া যায় না।
উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের পানিকাটা গ্রামের সোহরাব হোসেন ও শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, আগে পতিত জায়গা ছিল। এসব জায়গায় মানুষ খলা তৈরি করত। খলার জমি কমে গেছে। তাই মানুষ এখন খলার পরিবর্তে প্লাস্টিকের নেটেই ধান শুকায়। নেটে ধান শুকানো ও সংগ্রহ করা খুব সহজ। ২৫ ফুট বাই ২৪ ফুট সাইজের একটি নেট ২ হাজার টাকায় কিনে ৩ বছর ধরে ধান শুকাচ্ছি। আরও কয়েক বছর শুকানো যাবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় এবারে ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদও হয়েছে একই পরিমাণ জমিতে। ফলন ভালো হয়েছে। আবাদকৃত জমির ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন ধান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. শাহানুর রহমান বলেন, এক সময়ে এলাকায় বোরো জমির ধান ও খড় শুকানোর জন্য প্রচুর অনাবাদি জমি ছিল। কৃষিতে প্রযুক্তি ছোঁয়া লেগেছে, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এসেছে। নেটের ওপর ধান শুকানোর সুবিধা রয়েছে। ধানে ধুলো-বালি লাগে না, সহজে ধান সংগ্রহ করা যায়। নেট সংরক্ষণে রেখে বছর বছর ব্যবহার করা যায়। এই বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নেটের মাধ্যমে ধান শুকাচ্ছেন। এতে ধানের গুণগত মানও ভালো থাকছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্লাস্টিকের জালে ধান শুকানো
মে ২৭, ২০২৫
































