আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ১নং এলুয়ারি ইউনিয়নের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) জিয়াউর রহমানের অপসারণের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) জিয়াউর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা, মাহমুদুল হক, হাফেজ মো. রায়হান, সোহানুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান একজন দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর ব্যক্তি। তার অনিয়ম ও ঘুষ কারবারে ভুক্তভোগীরা অতিষ্ট হয়ে ওঠেছেন। ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ আসলে নানাভাবে তাদেরকে হয়রানীর স্বীকার করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ওই এলাকার ২৯৮ খতিয়ানে ৩৩৮ নং দাগে মূল হোল্ডিংয়ে কোন জমি না থাকলেও জাল খতিয়ান, খাজনা ও মাঠপর্চা তৈরি করে ৬ শতাংশ জমি অন্যের নামে খারিজ প্রদান করেন। উষাহার মৌজায় ৩০৩ খতিয়ানের ৩০৩ নং হোল্ডিংয়ের সম্পত্তির বাংলা ১৪৩০ সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ থাকা সত্বেও ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত খাজনা বকেয়া দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। দর কষাকষির পরে মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে ২হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মাত্র ৫১৬ টাকার খাজনার রশিদ দেন।
অপরদিকে উত্তর জগন্নাথপুর মৌজার ১১৮ হোল্ডিংয়ে ১৪৩০সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ থাকলেও তিনি পূর্বের বকেয়া দেখিয়ে দশ হাজার টাকা দাবি করেন। একই ভাবে তিনি মোটা অংকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে এলুয়াড়ী মৌজার ৬৩, ৬৮, ৯৮, ৩৯৯, ৪৩৭ খতিয়ানসহ বিভিন্ন জমির আংশিক খাজনা পরিশোধ দেখান। এতে অসহায় মানুষেরা খাজনা পরিশোধ করলেও নামমাত্র খাজনা পরিশোধ করে উদ্বৃত্ত টাকা পকেটে ভরেন এই কর্মকর্তা। প্রতিবাদ করলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। দ্রæত এই কর্মকর্তাকে অপসারণ করা না হলে এর পরে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ইতোপূর্বে স্থানীয়রা গত ৮ অক্টোবর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) জিয়াউর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ প্রদান করা হয়। কিন্তু অদ্যাবদী সে বিষয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) জিয়াউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছে তাও জানি না। এসব অভিযোগ সত্য নয়। কারো কোন কাজে বেঘাত ঘটেছে এজন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তারা আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, আমি ফুলবাড়ীতে সবেমাত্র যোগদান করেছি। কাজেই এই বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে ইউনিয়ন তহশীলদারের অপসারণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন
নভেম্বর ৬, ২০২৫
































