চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও আমিনুল ইসলাম :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পরও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ানো যাচ্ছে না কৃষকদের। এ কারণে ক্রমেই কমছে উপজেলায় পাট চাষের পরিধি। তবে কৃষকরা বলছেন, কৃষি শ্রমিক সংকট, উৎপাদিত পাট জাগ দেওয়ার জলাশয় সংকটসহ পাটের দরপতনের কারণে পাট চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের।
এক সময় ফুলবাড়ী উপজেলায় ব্যাপকভাবে পাট ও গম চাষ হত। গম চাষ অনেক আগেই বিলুপ্তির হয়ে গেছে। এখন পাটও সেই একই পথে হাঁটছে।
কৃষকদের অভিযোগ, পাট বীজের দাম নিয়ন্ত্রণে নেই, জমি থেকে উৎপাদিত পাট সংরক্ষণের জায়গা নেই, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা খরায় ফলন কমে যাচ্ছে, সরাসরি কৃষকদের জন্য সহায়তা বা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের কার্যকর উদ্যোগ নেই। এসব কারণেও কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলায় মোট ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ দশমিক ৮৩ বেল হিসেবে প্রায় ৭১০ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাট চাষ কৃষকদের আগ্রহী করতে উপজেলার ২০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় এনে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের পাট চাষি মামুনুর রশিদ বলেন, গত বছর ১২বিঘা জমিতে পাট চাষ করে আবদ্ধ জলাশয় না পেয়ে নদীতে জাগ দিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বন্যায় সব জাগ দেয়া পাট পানিতে ভেসে যায়। এবার জমি ফেলে রাখলেও পাট আবাদ করেননি। বর্তমানে পাট চাষে ভোগান্তি বেশি লাভ কম। লোকসানের সম্ভাবনা অনেক বেশি, তাই পাট চাষে আগ্রহ নেই এই কৃষকের।
একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, গতবার পাট চাষ করে পাটের পাতায় বিছা পোকার উপদ্রব হয়। বিছা পোকা মানুষের ঘরবাড়িতে পর্যন্ত চলে যায়। নদীতে জাগ দেওয়ার পর বন্যায় ডুবে পাট পচে যাওয়ায় কোন ফসল পাননি। এ কারণে এ বছর পাট চাষ করেনি তিনি।
ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের পাট চাষি মাজেদুর রহমান বলেন, কয়েক বছর থেকে পাট আবাদ করছেন। লোকসানের ভয়ে এ বছর ২ একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতিবিঘা (৩৩ শতক) জমিতে পাট কাটা, জাগ দেয়া, ধোয়া ও শুকাতে ১৮ থেকে ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। এছাড়া জমি চাষ, বীজ, সার, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়। আর প্রতি মণ পাট বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা দরে। এক্ষেত্রে বাজার মূল্য হিসেবে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে যায়। অনেক সময় পাটের দরপতন ঘটে তখন লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যায়। এসব কারনে পাট চাষে আগ্রহ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. শাহানুর রহমান বলেন, পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের আগ্রহী করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে উপজেলার ২০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় এনে পাট বীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
প্রণোদনা দিয়েও ফুলবাড়ীতে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ানো যাচ্ছে না কৃষকের
জুলাই ১, ২০২৫
































