বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রভাব বিস্তার করে মসজিদের পুকুর দখলে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। জমি-জায়গা দখল করে পত্তন দেওয়াসহ গাছ বিক্রি করে অন্তত ৮০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের আপুশাগাড়ী জামে মসজিদ কমিটির পক্ষে মোয়াতালি সাকাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে গোলাম রব্বানীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আপুশাগাড়ী জামে মসজিদের জমির ৫ দশমিক ৯২ একরের মধ্যে ৫ দশমিক ১৫ একর জবরদখল করেছেন গোলাম রব্বানী, হাফিজুর রহমান ও আদম আলীসহ তাদের লোকজন। তারা প্রভাব বিস্তার করে জায়গা জমি ও পুকুর দখলের পর পত্তন দিয়েছেন। গাছপালা বিক্রিসহ ৭৫ লাখ টাকা থেকে অন্তত ৮০ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। মসজিদ কমিটি একাধিকবার জমি ছেড়ে দেয়ার কথা বললে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আপুশাগাড়ী মৌজার ২নং খতিয়ানের ৫ দশমিক ৯২ একর জায়গার ৫ দশমিক ১৫ একরের মধ্যে মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, আবাদি জমি, পুকুর, ভিটে ও ডোবা রয়েছে। গত ১০ নভেম্বর পুকুর পত্তনি ও গাছ বিক্রির টাকার হিসাব চাওয়ায় মসজিদ কমিটির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়েন গোলাম রব্বানী। সেসময় তার লোকজন প্রভাব বিস্তার করে মসজিদের পুকুর কব্জায় নিয়েছিল। বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ শাসনামলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ম্যানেজ পলিটিক্স করতেন। দলের দুঃসময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত এবং নেতাকর্মীদের খোঁজ পর্যন্ত রাখেননি। কর্মীদের সঙ্গে দুরত্ব বাড়ায় দল থেকেও ছিঁটকে গেছেন।
এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, মসজিদের পুকুর ও জায়গা জবরদখল করিনি। কোনো প্রভাব বিস্তারের প্রয়োজন পড়েনি। ওয়াকফ স্টেটের নিয়ম মেনেই দখলে আছি। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কোনো সখ্যতা নেই। যারা থানায় অভিযোগ করেছে তারাই আওয়ামী লীগ করে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দখলবাজি বা প্রভাব বিস্তার করছে না। এমন অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আওয়ামী লীগের দোসরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করে অনৈতিক সুবিধা বা দখলবাজি করলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।
নন্দীগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হক অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































