সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিবেদক :
উপজেলার যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে যে কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের প্রেম যমুনার ঘাট। কালিতলা ঘাটের সৌন্দর্য আরও বাড়াতে পর্যটন মন্ত্রণালয় ইকোনোমিক জোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সঙ্গে যমুনা নদী শাসনের জন্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন স্পার ও হার্ড পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ, সদরের প্রেম যমুনার ঘাট, হাটশেরপুরের হাসনাপাড়া স্পার, নিজ বলাইল স্পার ও কুতুবপুরের দেবডাঙা এবং কুতুবপুর বাজারের পূর্ব পাশের স্পার।
দীঘলকান্দি হার্ড পয়েন্টটি সিঁড়ি করে নির্মাণ করার জন্য এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। ফলে এখানে প্রতিদিন শত শত এবং বর্ষাকালে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে। তাই স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা পছন্দের এই স্পটের নামকরণ করেছেন প্রেম যমুনা ঘাট, যা উপজেলার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হয়ে উঠেছে। এই প্রেম যমুনার ঘাটে পর্যটকদের বসার জন্য ৮টি ছাউনিসহ বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রয়াত সাংসদ আব্দুল মান্নান ও বর্তমান সাংসদ সাহাদারা মান্নানের ছবি আঁকা রয়েছে। সম্প্রতি ফিস পাস এলাকাতেও দুইটি ছাউনিসহ বেঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে, যা পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট কারবে।
এ ছাড়া পুরো কাঠামো এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য বর্ধনকারী বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। পুরো কাঠামোর বড়বড় সিসি ব্লক এবং সিমেন্টের খুঁটিতে বিচিত্র ধরনের রং করা হয়েছে। এতে এ পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়েছে। এ ছাড়া এ কেন্দ্রে কয়েক মাস আগে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস থেকে কালিতলা ও প্রেম যমুনার ঘাটে উন্নত ওয়াশ ব্লকও নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় এ পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আগমনও বেড়েছে।
স্থানীয় চা দোকানি মোমিন মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এখানে পর্যটকদের জন্য বসার বেশ ভালো পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। তাই এখানে আগের চেয়ে পর্যটকের আগমনও বেড়ে গেছে। এতে দোকানের বেচাকেনাও বেড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, উপজেলাটি পর্যটনকেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে বিভিন্ন সময়ে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। সম্প্রতি পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইকনোমিক জোন গড়ে তোলার লক্ষে কালিতলা ঘাট এলাকায় সৌন্দর্য বন্ধনের কাজ হাতে নিয়েছে। এতে করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন সময়ে যমুনা নদী ভাঙনের হাত থেকে সারিয়াকান্দির জনপদকে রক্ষার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের স্পার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ এবং গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করে। এগুলো দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। তারা একই সাথে যমুনা নদীর সৌন্দর্যও উপভোগ করেন। এ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য বাড়াতে নানা ধরনের কাজ চলমান। ভবিষ্যতে এখানে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।


































