মিঠাপুকুর সংবাদদাতা :
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় এক যুবকের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে মাদক ও জুয়ার আসর বসানোর সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাল্টি ছমিল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার আরিফুল ইসলাম (৩০) উপজেলার শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নের শাল্টি ছমিল এলাকার মোশারফ মণ্ডলের ছেলে। তিনি বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেএক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আরিফুল মিঠাপুকুর থানায় এজাহার দিয়েছেন। তবে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নে মাদক ও জুয়ার রমরমা কারবার চলে। ইউনিয়নটিতে বন বিভাগের বিশাল এলাকা জুড়ে সরকারি গাছের বাগান রয়েছে। সেখানে প্রকাশ্যেই বসে জুয়ার আসর। এসব জায়গায় হাত বাড়ালেই মেলে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদক। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।
এসবের প্রতিবাদে আরিফুলসহ কিছু সচেতন যুবক মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেন তারা। পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন, অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গত রবিবার (২৯ জুলাই) বিকালে ছমিল বাজার এলাকার একটি আম বাগানে জুয়া খেলা অবস্থায় আনারুল ইসলাম নামে এক জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত মাদক ও জুয়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশকে তথ্যদাতা হিসেবে আরিফুল ইসলামকে সন্দেহ করেন। সেই সূত্র ধরে জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের সদস্যরা সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শাল্টি ছমিল বাজারের রেজাউলের দোকানের সামনে আরিফুলকে বেধড়ক মারপিট করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেল, সাহেব, তুহিন, লিমন, মোকছেদ, ওয়াজেদ ও মোজাহারুলসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় আরিফুলের আত্মচিৎকারে বাজারের লোকজন এগিয়ে এলে দলবদ্ধ সিন্ডিকেট সদসস্যরা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে আরিফুলকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।
আরিফুল ইসলাম বলেন,‘আমাদের এলাকা মাদক ও জুয়ায় ভরে গেছে। সকাল হতেই রাবার বাগানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত জুয়াড়িরা আসর বসায়। সেখানে স্থানীয়রাও জুয়া খেলে সর্বোস্ব হারাচ্ছেন, সংসারে অশান্তি বাড়ছে। যুবকরা মাদকাসক্ত হচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় আমার ওপর সংঘবদ্ধভাবে তারা হামলা চালিয়েছে। আমি সঠিক বিচার চাই।’
বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান মণ্ডল বলেন,‘আরিফুলের ওপর মাদক ও জুয়াড়িরা যেভাবে হামলা চালিয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা পাশে আছি। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐকবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
মিঠাপুকুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন,‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমন্ত্রণ/এজি


































