আজিজুল হক সরকার :
চলমান কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে রাস্তার দু’ধারের শুকনো গাছগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পথচারীদের জন্য বিষ ফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে! গাছ কেটেও ব্যস্ততম রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। আইনি জটিলতায় গাছের গোলাই পড়ে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। বৎসর অতিক্রান্ত হলেও এগাছগুলো কাটার এবং অপসারণের কোন উদ্যোগ নেই। পথচারীরা রাস্তা পারাপারে চরম উৎকন্ঠায় ।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী – মাদিলা হাট পাকা রাস্তার প্রায় ৮ কি:মি: জুড়ে রাস্তার দু‘ধারে মৃত-অর্ধমৃত প্রায় অর্ধশত গাছ ভয়ঙ্কর হয়ে দঁাড়িয়ে আছে। যেকোন সময় পথচারীদের উপর গোলাই কিংবা ডাল ভেঙে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রায় বছরাধিক সময় হতে চললো এসব বিদেশি( লাগানো) গাছ পরিবেশের অনুকুল না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মরতে শুরু করে। মরা গাছের গোলাই এবং ডালপালাগুলো রাস্তার উপর হেলে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পথচারীরা রাস্তা পারাপারের সময় এতো আতঙ্কে পার হন যে, বিপজ্জনক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে শুকনো গাছের জায়গাগুলো দূর দিয়ে সরে পারাপার হন।
এছাড়াও সুজাপুরে বড় গাছের ৮-১০টি গোলাই, মেলাবাড়ীতে ২টি গাছের৭-৮টি গোলাই,চাঁদপাড়া স্কুলে ২টি গাছের৫-৭টি গোলাই, ডাক বাংলোয় ২টি গাছের গোলাই এবাবেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। বেশকিছু মরা গাছ ইতোমধ্যে অসাধু ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে চুরি করেও নিয়ে গেছে ।সরকার তা থেকে বড় ধরনের রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর ধারনা ।
এব্যাপারে পথচারী মাদিলাহাটের ভ্যান-রিক্সা চালক লোকমান হোসেন,জিয়ারুল হক,ছদরুল, সুজাপুরের দিজেন,হাসিবুল বলেন,আমরা ফুলবাড়ী- মাদিলা হাট নিয়মিত যাতায়াত করি ।কিন্তু এই মরা গাছগুলো এবং রাস্তায় পড়ে থাকা গাছের গোলাই আমাদের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে আছে।সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকতার্রা কি এতোদিনও দেখতে পাননা?
পুখুরী স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নান এবং মাদিলাহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.আবু শহীদ বলেন, প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়েই কলেজে যাতায়াত করি । মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা মরা গাছগুলো দেখলে খুব ভয় লাগে, কখন মরা গাছ ভেঙে গায়ে পড়ে। খুব দ্রুতই এ মরা গাছগুলো অপসারণ করা দরকার ।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল সিরাজ বলেন , কর্মস্থল অন্যএ হলেও গ্রামের বাড়ি যাবার সময় এ রাস্তা দিয়ে যাই। ভয় লাগে কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে।রাস্তার দু’পাশের মৃত গাছগুলো খুব দ্রুত কেটে ফেলা দরকার। প্রশাসনকে এই গাছগুলো কাটার ব্যাপারে শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।
চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক বলেন, ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি কাঁঠাল, একটি নিম গাছ ইউএনও স্যারের নির্দেশে কাটা হয়েছিল। গাছগুলো নিলামের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত তা নিলাম না হওয়ায় পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক বলেন, ২০২১ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি কাঁঠাল, একটি নিম গাছ ইউএনও স্যারের নির্দেশে কাটা হয়েছিল। গাছগুলো নিলামের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত তা নিলাম না হওয়ায় পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
একই কথা বলেন মেলাবাড়ী ভূমি অফিসের তহশীলদার লুৎফর রহমান। ৫ বছর আগে একটি আম গাছ এবং নিম গাছ কাটা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব না দেয়ায় তা এখনো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে, যারা এসব পরিত্যাক্ত গাছ, কাঠ দরপত্র আহবানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিভাগীয় ফরেস্ট অফিসার (বি এফ ও) ফাহিম মাসউদ বলেন, যারা বলছেন আইনি জটিলতার কারণে গাছগুলো দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে,তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, উপজেলা পর্যায়ে যেসব গাছ ঝুঁকিতে কিংবা ঝড়ে পড়ে রয়েছে, আমাদেরকে জানালে আমরা একটা মূল্য নির্ধারণ করে দিব, সে অনুযায়ী তারা টেন্ডার করতে পারবেন।
উপজেলার এলুয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাও. নবিউল ইসলাম, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, খয়েরবাড়ী ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান শামিম হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে বেশ কিছু এলাকায় মরা গাছ, গাছের গোলাই নানা জটিলতায় পড়ে আছে। আবার রাস্তার পাশে,বাসতবাড়ির উপরেও গাছ-গাছের ডাল মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে,যা এই কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুমেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপসারণ করা দরকার।
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শফিকুল ইসলাম বলেন,সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের সাথে আলোচনা করে রাস্তার গাছ এবং পড়ে থাকা গাছের গোলাই অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।।
ফুলবাড়ী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ হাছান সমকালকে বলেন, উপজেলার কোথায় কোথায় এসব মরা গাছ এবং পড়ে থাকা গাছের গোলাই আছে সেসব অনুসন্ধান করে দরপত্রের ব্যবস্থা করা হবে। রাস্তার ঝুকিপূর্ণ গাছ এবং গাছের গোলাই গুলোও দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপসারণ করা হবে।
ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) ফাহিম মাসউদ সমকালকে বলেন, আমাদের বন ভিাগের কোথায় কোথায় এসব মরা গাছ আছে তথ্য দেন ,দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেব।
আমন্ত্রণ/এজি


































