চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টা থেকে আবারো দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটটি থেকে বর্তমানে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে। এই বিদ্যুৎ ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়ছে। যার পুরোটাই সরবরাহ করছে পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল)।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি ইউনিটের মধ্যের কোনোদিনও তিনটি ইউনিট থেকে এক সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। যা হয়েছে তার সবটাই কোনো কোনো সমস্যার জন্য একটি বন্ধ রেখে দুইটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারি তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২নং ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার সম্পন্ন ২ নং ইউনিট থেকে চালু অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। একইভাবে ১ মাস ৬ দিন বন্ধের পর শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এ সময় ৩নং ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৯০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। একই দিন রাত ৯টার দিকে ১২৫ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিট সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধের আগ পর্যন্ত এই ১নং ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এরই মধ্যে আবার উৎপাদনে থাকা একমাত্র ৩নং ইউনিটটি চালুর দুইদিনের মাথায় সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের সংকটে পড়েন দিনাজপুরসহ গোটা উত্তর জনপদের মানুষ।
তবে সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ থাকা ১নং ইউনিটটির সংস্কার কাজ শেষ করে ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টা থেকে আবারো বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে জনমনে। ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পুরোটাই যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে।
জানা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনারের সঙ্গে সরকারের সম্পাদিক চুক্তি আগামী বছর শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো মেরামতসহ যন্ত্রাংশ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি করছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেওয়াসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুতের অপর একটি সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করে হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট সচল রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত এক সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ থাকা ১নং ইউনিটটির সংস্কার কাজ শেষ করে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৩২ মিনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন হলেও বর্তমানে ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। তবে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চীন থেকে কিছু যন্ত্রাংশ এনে ৩নং ইউনিটটিও চালু করার কথা জানিয়েছে। সেটি চালু হলে বিদ্যুতের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































