বগুড়া ব্যুরো :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একান্নটি পীঠস্থানের অন্যতম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মা ভবানীর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব। অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পুণ্যলাভের আশায় সূর্যোদয়ের পর থেকে মন্দিরের শাঁখারি পুকুরে পুণ্য স্নান ও পূজা-অর্চনার মাধ্যমে ধর্মীয় উৎসবের সূচনা হয়।
বুধবার (১২ ফেব্রæয়ারি) এই মাঘী পূর্ণিমা উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার পূণ্যার্থীদের আগমনে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্দির চত্বরে দই-মিষ্টি, চিড়া-মুড়কি ও ঝুড়িসহ পূজায় ব্যবহৃত নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে জমজমাটভাবে।
মন্দির কমিটির তত্বাবধায়ক অপূর্ব চক্রবতী জানান, শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞের পর সতী মাতা দেহ ত্যাগ করেন, সে সময় মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করলে বিষ্ণু দেব সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহখন্ডসমূহ উপমহাদেশের একান্নটি স্থানে পতিত হয়। এ সকল স্থানসমূহ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। এই মা ভবানীপুর শক্তিপীঠসমূহের অন্যতম স্থান, তাই এই মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠে।
নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থেকে আসা ভক্ত রঞ্জিত তলাপাত্র বলেন, প্রতি বছর আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে পূণ্য ¯œান করতে আসি। পূর্ব পুরুষ থেকে আমরা এই মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে অংশগ্রণ করি।
সিরাজগঞ্জের কাটাগাড়ি থেকে আসা বিথী মাহাতো বলেন, মা ভবনীর কাছে পূর্বে প্রার্থনা করে মনষ্কামনা পূরণ হয়েছে, সেই বিশ^াস ও ভক্তি থেকে প্রতি বছরের মতো মা বাবার সঙ্গে মায়ের মন্দিররে পূণ্য ¯œান করতে এসেছি।
নারী শাঁখা বিক্রেতা সুমতি রানী হালদার বলেন, রাজশাহী থেকে প্রতি বছর মেলায় দোকান নিয়ে আসেন তিনি। গত ২৫ বছর ধরে তিনি নারী ভক্তদের কাছে হাতের বাহারী নকশার শাখা বিক্রি করছেন। তবে এবছর তুলনামূলক ভাবে বেচা-কেনা কম।
মিষ্টি ব্যবসায়ী গুপি মোহন্ত বলেন, একদিনের এই মেলায় প্রায় ১০০ মণ দই ও ১৫০ থেকে ২০০ মন মিষ্টি বিক্রি হয়। দই প্রতি সরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়, আর মিষ্টি সন্দেশ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৬০০ টাকায়।
উৎসবকে ঘিরে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাও আনন্দে মেতে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, এই মেলায় হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেয় এবং আত্মীয়-স্বজনরা এই উপলক্ষে নাইওরেও আসে। এছাড়াও মেলায় শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রী, মসলা, কালাই ও ছাতুর দোকান বসেছে।
এব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, উৎসব নির্বিঘœ করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দিবাগত রাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান : বগুড়ার শেরপুরে মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে ভক্তদের ঢল
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫
































