গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দিন দিন বেড়েই চলেছে পরিবেশের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন ও চারা উৎপাদন। পরিবেশের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ হলেও লাভজনক হওয়ায় পরিবেশ ধ্বংসকারী অধিকপানি শোষনকারী দ্রæতবর্ধনশীল ইউক্যাপিটাস গাছ রোপন কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। তবে এই গাছের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে না জানায় সচেতনার অভাবে এবং প্রসাশনের তদারকি না থাকায় বাড়ীর পাশে, খেলার মাঠে, বিদ্যালয় চত্বরে, রাস্তার পাশে, খোলা মাঠে, জমির আউলে এই গাছ লাগানো অব্যহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে ইউক্যলিপটার্স পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বৃক্ষ। এটা এত ক্ষতিকারক যে কৃষি জমির পাশে এই গাছ থাকলে সে জমির প্রায় ৩০ শতাংশ ফলন কমে যায়। আবার ্এই গাছের ছায়া যে পর্যন্ত পরে সে পর্যন্ত জমিতে কোন ফসল হয়না। পুকুর পাড়ে ইউক্যালিপটাস গাছ থাকলে সেই পাতা যদি পুকুরের পানিতে পরে তা’হলে পুকুরের পানি রং কালো হয়ে যায় এবং পানির গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে সেই পুকুরে মাছের চাষ করলে মাছ বড় হয়না।
উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মেরী গ্রামের বাবলু মিয়া বলেন, শুনেছি এই গাছের পানি শোষণ ক্ষমতা অনেক বেশী। যে কারণে জমির আইলে এই গাছ লাগালে খুব সহজে জমিতে ফসলের জন্য দেয়া সেচের পানি শুষে নেয়। যে কারণে ফসলের জমি খুব সহজেই শুস্ক হয়ে যায়। আর খুব দ্রæত বড় হয় এই গাছ। অনেক লোভে পরে ইউক্যালপটাস গাছ লাগালেও গাছ গুলি পরবর্তিতে কেটে ফেলেছি।
এখন রকম কথা বলেন গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নে ঘুগা মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, তিনি বলেন আমার বাড়ী বরেন্দ্র এলাকায়। এই এলাকার বেশী ভাগ রাস্তায় বিভিন্ন সমিতির নামে পতিষ্ঠানের নামে এই গাছ লাগানো হয়। হয়ত এই গাছ থেকে সেই সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ব্যক্তিগত ভাবে তাৎক্ষনিক কিছু লাভবান হয়। কিন্তু এই গাছ থেকে সৃষ্টি হওয়া সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদি হয়। যেমন এই এলাকায় তুলনামূলক বৃষ্টিপাত অনেক কমে গেছে এবং মাটি শুস্কতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল উৎপাদন ক্ষমতাও কমতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পদকপ্রাপ্ত পরিবেশবাদী পাখি প্রেমী আহমদ উল্লা বলেন, ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন ও চারা উৎপাদন দ্রæত বন্ধে সরকারি উদ্যোগ নেয়া উচিত। না হলে আগামীতে এই গাছের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তণের প্রভাবে দেশবাসীকে চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন এই গাছ এতটা খারাপ কোন পাখী এই গাছে বসেও না আবার বাসাও বাধে না। এমনকি এর যে ফল রয়েছে তাও কোন পাখি খায়না। আমার ব্যক্তিগত অভিমত পরিবেশ সম্পর্কে এখনই সচেতন না হলে গত বছর দেশে যে পরিমান অনাবৃষ্টি ও খরা ছিল আগামীতে তার চেয়েও বেশী হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ইউক্যালিপটাস গাছ পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। যে কারনে কৃষি বিভাগ এই গাছ লাগানোর পরামর্শ ও উৎসাহ দেয় না এবং চারা উৎপাদনও করেনা। সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ হলেও কোন নির্র্দিষ্ট আইন না থাকায় এই গাছ রোপনকারী ও চারা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তবে এই গাছ লাগানোর ব্যপারে নিজে থেকেই সচেতন না হলে পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতি বয়ে আনবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে বেড়েই চলেছে পরিবেশ ধ্বংসকারি ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদনসহ রোপণ
আগস্ট ১৮, ২০২৪


































