গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগাম শিম চাষের আগ্রহ বাড়ছে। লাভবান হওয়ায় প্রতি বছর সম্প্রসারণ ঘটছে শিমের আবাদ। প্রতিকুলতা কাটিয়ে এই এলাকায় জমিতে মাচা করে শিমের আবাদ করছেন চাষিরা। আগাম শীতকালীন শিম চাষে রোগবালাই প্রবণতার কারণে বাড়তি পরিচর্যা কারণে উৎপাদ ব্যায় বৃদ্ধি পেলেও ফলন এবং বাজার দর ভালো পাওয়ায় অর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।
উপজেলার কামারদহ, গুমানীগঞ্জ, কোচাশহর, শালমারা, শিবপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ, হরিরামপুর, নাকাইহাট, তালুককানুপুর, দরবস্ত, সামপমারা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্যান্য শাক-সবজির পাশাপাশি শিম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজি হিসেবে বাজারে সিমের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক পর্যয়ে বানিজ্যিক সিম চাষের সম্প্রসারণ । এক সময় বসত বাড়ির আশে পাশে সল্প পরিসরে শিম আবাদ হলেও এখন উপজেলার অনেক এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে সিম করা হচ্ছে। রবি মৌসুমে কৃষকরা ক্ষেতে মাচা পদ্ধতিতে ব্রাক-১ ও বারি-১, ২, ৩ ও ৪ জাতের শীতকালীন শিম চাষ করছেন কৃষক। সবচেয়ে বেশী সিম উৎপাদনকারী উপজেলা হিসেবে জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে গোবিন্দগঞ্জের নামও রয়েছে।
শীতের শুরতেই যাতে বাজারে সিম সরবরাহ করা যায় এজন্য আগাম সিম চাষে কৃষকরা জন্য শ্রাবন মাসের শুরুতেই জমিতে শিম বীজ বপন করে। আর কার্তিকের শুরুতেই উৎপাদিত শিম উঠানো শুরু হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিকুল আবহওয়া ভারি বর্ষণে শিমের রোগবালাইয়ের কারণে বাড়তি পরিচর্যা করতে হচ্ছে চাষিদের। তবে উৎপাদনের শুরুতেই আগাম সিমের বাজার দর ভালো পাওয়ায় আর্থিক ভাবে লাভোবান হচ্ছেন চাষিরা।
গুমানীগঞ্জের ইউনিয়নের ঘুগা গ্রামের সিমচাষী আব্দুল বাছেদ বলেন উৎপাদনের শুরুতেই বাজারে প্রতি মণ শিম ৫ হাজার ২শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তবে এখন জাতভেদে হাট-বাজারে প্রতি মণ শিম ৪ হাজার খেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভাল দামের অর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, শীতকালিন সবজি হিসাবে বাজারে শিমের চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক ভাবে কৃষক পর্র্যায়ে এর আবাদ সম্প্রসারণ ঘটছে। এতে চাষিরা অর্থিক ভাবে লাভবান হবেন বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগ। শিম চাষে উন্নত জাত, রোগবালাই ও আবাদ পদ্ধতি সহ নানা বিষয়ে চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এবার কৃষক এবং পারিবারিক ভাবে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে সিমের চাষ হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































