গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঈদ মার্কেট ঘিরে সক্রিয় শয়তান বাহিনী। এই চক্রের এক নিঃস্বাসেই সর্বস্ব হারিয়ে ঘরে ফিরছে মানুষ। নীরিহ বৃদ্ধ ও সরলমনা মানুষ এদের টার্গেট। নির্জন নিরিবিল, বাসে, অটোরিক্সা সহ বিভিন্ন জায়গা এদের নিরাপদ স্থান হলেও এরা এখন সক্রিয় মার্কেট এবং ব্যাংক পাড়ায় এমন কি কাপড় ব্যবসায়ি সহ নানা পেশার মানুষ সেজে প্রতারণায় ব্যস্ত গ্রামে গঞ্জে।
একাধিক ভুক্তভোগি মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, শয়তানরা দুই অথবা ৩ জন এক দলে সংঘবন্ধ।তবে কেউই এক সাথে থাকে না। পৃথক পৃথক চরিত্র সেজে এক সাথে কাজ করে। এরা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে এবং মুখে মাক্স পরে মার্কেট, বাজার বাসষ্ট্যান্ড সহ নানা স্থানে ঘুরে, ঘুরে এরা শিকার সংগ্রহ করে। শয়তানদের একজন যদি কাউকে সার্গেট করে তবে টিমের সবাই তাকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যায়। তারপর উপযুক্ত স্থানে সেই টার্গেটের ব্যক্তির সাথে নানা কথা বলে নানা ভাবে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের সংস্পর্শে এসে কোন না কোন ভাবে নাকের খুব কাছাকাছি তাদের হাতের কাগজে থাকা অজানা পাউডারের ঘ্রাণ ছড়াবে আর তাতেই মূহর্তেই টার্গেট করা ব্যক্তি তাদের হিপটনাইজ হয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তারপর তারা যা চাইবে, যেখানে নিয়ে যাবে, ভুক্তভোগিরা তাই করবে। এই সুযোগে এই শয়তান বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগির কাছে টাকা পয়সা স্বর্ণলংকার সহ কি কি দামি জিনিস আছে জেনে নিয়ে সব মালামাল তার কাছ থেকে নিয়ে মূহর্তে চলে যাবে। এসব কাজে কোন প্রতিবাদ ধস্তাধস্তি অথবা চিৎকার বা কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা না থাকায় পাশের লোকজন বুঝতেই পারেনা এখানে কি হচ্ছে। অথবা বিপদগ্রস্থ লোককে সাহায্য করতে হবে। প্রতারকদের এই কর্মকান্ডকে স্থানীয়রা শয়তান বাহিনী নাম দিয়েছে। আর তাদের হাতের পাউডারকে নাম দিয়েছে শয়তানের নি:শ^াস।
উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মহিলা আশাতন বেওয়া কোচাশহরের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে এরকম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। টাকা নিয়ে যাওয়ার পর সে বুঝতে পারে তাকে কোন অজানা ওষুধে মূহুর্তের জন্য সব কিছু ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল। এধরণের অনেক ঘটনা ঘটছে গোবিন্দগঞ্জ বাজার এলাকা, বাসষ্ট্যান্ড, সহ বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু শয়তান বাহিনীর চাতুরতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ বুলবুল ইসলাম বলেন,এ ধরণের কোন ভুক্তভোগির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঈদে যাতে কোন ব্যক্তির কোন বিষয় অশান্তির কারণ হতে না পারে এবং প্রতারণা শিকার না হয় সেজন্য পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ ও নারী পুলিশ মাঠে কাজ করছে। সন্দেহ হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ উপজেলার সড়ক গুলিতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে ঈদ মার্কেটে সক্রিয় শয়তান বাহিনী : এক নিঃস্বাসেই সর্বস্ব: হারিয়ে ঘরে ফিরছে নিরিহ সরলমনা মানুষ
মার্চ ২৫, ২০২৫
































