মো. মতিউর রহমান, দিনাজপুর :
আলু কুড়িয়ে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর, ফার্মেরহাট ও জামতলি এলাকার হতদরিদ্র কিছু পরিবার। প্রতি বছর আলু কুড়িয়ে সেটি সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করেন তারা। কেউ কেউ সে আলু বিক্রি করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনেন পরিবারের জন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার বিএডিসির বীজ উত্পানকারী জমি ও আশপাশের কৃষককের জমিতে আলু খুঁজতে বেরিয়েছেন শত শত মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ যেন কেউ বাদ নেই। কেউ জমির মাটি খুঁড়ে কেউ-বা আবার হালের পেছনে ঘুরে এ আলু কুড়িয়ে সুখ অনুভব করেন।
আলু কুড়াতে আসা রুমন, আকাশ ও শেফালি জানায়, ‘সারা বছরই আলু লাগে। আমাদের সংগ্রহ করে দেওয়া আলু মায়েরা হাঁড়ি-পাতিল বা বালুতে সংরক্ষণ করেন। এসব আলু দিয়ে প্রয়োজনে সারা বছর আমরা বিভিন্ন তরকারি বানিয়ে খাই।’
আলেয়া বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা জানান, আলু তোলার সময় অসতর্কতার কারণে কিছু আলু মাটিতে চাপা পড়ে যায়। আমরা এসব আলু সংগ্রহ করি। কৃৃষকরা আলু নিয়ে যাওয়ার পর জমি উন্মুক্ত করে দেন। বাশিলা, কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে থাকা আলু বের করে আনি।’ জামতলী বাজারের আলু ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ‘কুড়ানো আলুতে সাধারণত সব ধরনের আলু থাকে। আলুগুলো তারা কম মূল্যে বিক্রি করেন। যারা বিক্রি করে তারা মূলত গরিব অসহায় শিশু। আলু কুড়িয়ে অনেক শিশু হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছে। এ টাকা দিয়ে তার পোশাক, জুতা কিনে থাকে। ছোটবেলা থেকে আমরা এ আলু কুড়ানো দেখে আসছি।’ কর্ণাই গ্রামের কৃষক ইয়াসির আলী বলেন, ছয় বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। গরু দিয়ে হালচাষ করে শ্রমিক দিয়ে আলু তুলেছি। এরপরও কিছু আলু মাটিতে থেকে যায়। সেই আলু গ্রামের মানুষ কুড়িয়ে থাকে। আলু কুড়াতে আসা বেশির ভাগই নারী।
চেহেলগাজী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নাজির হোসেন বলেন, এ এলাকায় ব্যাপক আলু চাষ হয়। তাছাড়া বিএডিসির খামারে বীজের আলু চাষ হয়। যখন আলু তোলে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আলু কুড়ানোর উত্সব দেখা যায়। হাজারো মানুষ এ জমিতে আলু কুড়ায়।
নশিপুর পাটবীজ খামারের সহকারী পরিচালক শেকর কুমার সাহা বলেন, যখন বীজ আলু তোলা হয় তখন এলাকার মানুষ দলে দলে জমিতে আসেন। এটা তাদের কাছে উত্সবের মতো। যেসব আলু মাটিতে ঢাকা পড়ে, সেগুলো তারা কুড়িয়ে নিয়ে যান।’
কুড়ানো আলু দিয়েই বছরের চাহিদা পূরণ
মার্চ ১৪, ২০২৪
































