আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারি শাহরিয়ার সরকার সিহাব।
তার খামারের আইওটি ডিভাইস জেলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে দূর দূরান্ত থেকে এক নজর দেখতে আধুনিক এ খামারে আসছেন অনেকে।
জানা গেছে, উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বাঘাচড়া কাজী গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা শিহাব। পার্বতীপুর উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র- জিবিকের সহযোগিতায় গত বছর ৩১ শতক জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি আধুনিক মুরগির খামার। খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আইওটি-ভিত্তিক স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম।
যেখানে জ্বলছে লাইট, চলছে ফ্যান, নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তাপমাত্রা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হচ্ছে খামারের বর্জ্যও । গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের দেয়া আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি সহযোগিতায় ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে বাড়িতে বসেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে পুরো খামারটি।
বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ৩ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে । প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭০০ টি ডিম উৎপাদন হচ্ছে। হিসেব অনুযায়ী তিন হাজার মুরগির বিপরীতে খামার দেখা শোনার জন্য ন্যূনতম তিন জন কর্মচারীর প্রয়োজন হলেও আইওটি ডিভাইস থাকার কারণে মাত্র একজনকে সাথে নিয়ে সুন্দরভাবে খামার পরিচালনা করে আসছেন শিহাব।
প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেও নির্ধারিত তাপমাত্রা ও পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম এই প্রযুক্তি, যা খামারের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রম, সময় ও পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে। ফলে কর্মী নির্ভরতা কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে লাভের পথে হাঁটছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।
খামারি শাহরিয়ার সরকার সিহাব বলেন, “প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এখন আধুনিক খামার পরিচালনা করা কঠিন। আইওটি ডিভাইস ব্যবহারের ফলে আমি দূরে থেকেও খামারের সবকিছু পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। এতে সময় বাঁচছে, ঝুঁকি কমছে এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনাও আরও সহজ হয়েছে। শুধু তাই নয়, আইওটি ডিভাইস থাকায় আমার কর্মচারী সংখ্যাও কমেছে। ফলে আগে তাদের যে মজুরি দেওয়া হতো এখন তা আর লাগছেনা।এতে খরচ কমে যায় আমি আর্থিকভাবে অনেকাংশে লাভবান হয়েছি। আমাকে ডিভাইস সরবরাহ এবং পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত আইওটি ডিভাইস এর কার্যক্রম দেখতে প্রতিনিয়তই আধুনিক এ খামারে আসছেন অনেকে। এরমধ্যে তাজকির হুসাইন, রবিউল ইসলাম, আরমান আলী, ইকবাল হোসেন সহ সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিভাইসটির কার্যক্রম সম্বন্ধে আগে থেকে অবহিত থাকলেও তা কখনো সরাসরি দেখা হয়নি। তাই শিহাব ভাইয়ের খামারে দেখতে এসেছি। এখানে এসে আইও টি ডিভাইসটির কার্যক্রম দেখে ভালো লেগেছে। স্থানীয়রা ডিভাইসটির সুফল সম্বন্ধে অবগত অবগত হলে এর ব্যবহার পার্বতীপুর উপজেলা থেকে ব্যাপক হারে শুরু হবে বলে মনে করছি।
ডিভাইসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রাশেদুল ইসলাম জানান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন ( পিকেএসএফ’র) সহযোগিতায় এবং গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের বাস্তবায়নে খামারি শিহাবকে আই ও টি ডিভাইস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র লাইট, ফ্যান ও তাপমাত্রা নয় খামারে বিদ্যমান অ্যামোনিয়া এবং মিথেন গ্যাসের পরিমাণ দেখার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে খামারটি আধুনিক খামারে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: পবিত্র কুমার জানান, জেলায় প্রথমবারের মতো পার্বতীপুর উপজেলায় আইওটি ডিভাইসটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। যা প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটি খামারে আধুনিকায়নে আইওটি ডিভাইস ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিভাইসটির ব্যবহার বৃদ্ধি হলে খামারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। তাই এ প্রচার প্রসারে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে, আইওটি ডিভাইস এর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পার্বতীপুরের গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এই খামার প্রমাণ করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশের পোলট্রি খাত আরও উৎপাদনশীল, দক্ষ ও টেকসই হয়ে উঠতে পারে। শুধু তাই নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এ আইও টি ডিভাইসের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
আমন্ত্রণ/এজি
উদ্যোক্তা শাহরিয়ারের খামারে ব্যবহৃত প্রযুক্তি জেলায় প্রথম
জুলাই ১০, ২০২৬
































