বিরামপুর সংবাদদাতা :
দিনাজপুরের বিরামপুরে শীতের আগাম সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ জমি চাষ করছেন, কেউবা শীতের আগাম সবজির বীজ ছিটাচ্ছেন, সবজি চাষে ব্যবহৃত বাঁশের মাচা তৈরিসহ কেউবা নিড়ানি বা সেচের পানি দিচ্ছেন খেতের জমিতে। এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন হবে আনুমানিক ৩২ হাজার ২৫০ টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় আগাম সবজির চাষ করেন। এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগাম সবজির চাষ করেছেন কৃষকরা, যা বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এতে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। শীতের আগাম সবজি বাজারে নিতে কে আগে পারবেন সে নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ফসলের মাঠে।’
তিনি বলেন, ‘বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর,কাটলা, জোতবানী, পলিয়াগপুরসহ ইউনিয়নগুলোতে পৌর এলাকার নদীর দুইপাশের চাষীদের মধ্যে কে আগে ফলন বাজারে আনতে পারেন এ নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। শীতকালীন মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক উল্লেখিত এলাকার কৃষকরা আগেই বাজারে তোলেন। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তাদের পাশে আছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।’
কৃষক রশিদুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি চাষ কষ্টসাধ্য হলেও দ্বিগুণ লাভ হয়। এবার ৪-৬ টাকা দরে চারা কিনে রোপণ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে সবজি চাষের জন্য খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বিঘায় সবজি চাষের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করে থাকেন।
উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ভেলার পাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক শীতে তিনবার সবজি চাষ করেন। ইতোমধ্যে দেড় বিঘা জমিতে ১০ হাজার ৫০০ পিস আগাম বাঁধাকপি চাষ করছেন। এতে তার খরচ হবে প্রায় ৩৫/৪০ হাজার টাকা। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করবেন দেড় লক্ষ টাকায়। শীতকালীন সবজি চাষে প্রতি বছরই সফল হয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































