রফিকুল ইসলাম ফুলাল, দিনাজপুর :
মহামান্য হাইকোর্টের রীট পিটিশনের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ৮৭ জন রিট আবেদনকারীর পক্ষে মো. তোফায়েল আহমেদ।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ২২ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছি আমরা রিট পিটিশনকারী ৮৭জন কর্মচারি। এই কয়লা খনিতে জমি অধিগ্রহণের ফলে নিজেদের বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি বংশীয় কবরস্থান পর্যন্ত হারিয়েছি। শুরু থেকেই কোম্পানিতে ক্ষতিগ্রস্থদের স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রেখে সকল সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে আমাদের।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে কোম্পানীর স্থায়ী পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কর্মকর্তাগণদের নিয়োগ প্রদান করা হয়। অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রাখা হয় কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়া। যদিও ইতিপূর্বে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোম্পাণিতে কর্মরত কর্মচারিদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, কোম্পাণির আউটসোর্সিং কর্মচারিদের বঞ্চণার বিষয়টি ২০১৩ সালে জেলা প্রশাসকগণের সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভ‚ত করা হলে তিনি সদয় হয়ে কর্মচারিদের স্থায়ীকরণের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তা সাবেক মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের পত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়। কিন্তু এরপরেও উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে নিরুপায় হয়ে আমরা আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ৮৭জন কর্মচারি ২০১৮ সালে চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে হাইকোর্টে উপযুক্ত দলিলসহ রীট পিটিশন দায়ের করি। এরপর দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি দেখে উভয়পক্ষের ব্যারিষ্টারগণের যুক্তিতর্ক শ্রবণ শেষে আমাদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে ২০০৯ সনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অধীনে এবং সেই সময়ে বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কর্মচারী পদে স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করেন হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ। পরবর্তীতে বিসিএমসিএল কর্তৃক মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করলে মহামান্য আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল ও রিভিউ ডিসমিস করে দেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে আউটসোর্সিং কর্মরত ৮৭জন রিট আবেদনকারীর পক্ষে মহামান্য হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আউটসোর্সিং কর্মরত কর্মচারিরা। এসময় আউটসোর্সিং কর্মরত কর্মচারিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলে মো. সোহেল রানা, হুজুত উল্লাহ, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুর রহিম এরশাদ, মোশারফ হোসেন, তাজমুল হক, জাকির হোসেন, আবুবক্কর সিদ্দিক, ইউসুফ আলী, রবিউল ইসলাম, আজাবুল হক, সোহেল সাজ্জাদ।
আমন্ত্রণ/এসিজি
হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ১৭, ২০২৪


































