অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও আমিনুল ইসলাম, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ১৪০৬ নং কোল ফেইস বোনাসের দাবিতে আজ শনিবার (২৩ মে) দুইঘন্টা ব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছেন খনিশ্রমিকরা।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত খনির প্রশাসনিক ভবনের করিডরে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচি চলাকালে দাবির সর্মথনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিজার রহমান তপু, সংগঠনের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, সহসভাপতি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিজার রহমান তপু, সংগঠনের সভাপতি মো. রায়হানুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. নেতা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আবু তাহেরের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন।
বৈঠকে আন্দোলনকারী আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানানো হয়, আগামীকাল রবিবারের (২৪ মে) মধ্যে তাদের কোল ফেইস বোনাস দেওয়া না হলে ঈদের দিন খনিতেই নামাজ আদায় করবেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রমিকদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে জানান, তাদের বোনাস প্রদানের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যায় আগামীকাল রবিবার (২৪ মে) শ্রমিকরা তাদের কোল ফেইস বোনাস পেয়ে যাবেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে তারা নিয়মিত ফেইস বোনাস পেয়ে আসছেন। খনির ভূগর্ভের ১৪০৬ নং কোল ফেইসের মজুদ কয়লা উত্তোলন জানুয়ারি মাসে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ওই কোল ফেইসের বোনাস শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে ফেইস বোনাসের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গত ২০ মে পেট্রোবাংলার বোর্ড সভায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) এর কর্মকর্ত ও কর্মচারীদের কোল ফেইস বোনাস অনুমোদন দেওয়া হলেও আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের কোল ফেইস বোনাস অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা এখন পর্যন্ত তাদের ন্যায্য পাওনা কোল ফেইস বোনাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঈদের আগে বোনাস পাওয়া গেলে পরিবার পরিজন নিয়ে একটু হলেও আনন্দে ঈদ উৎসব উদযাপন করা যেতো। তবে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) ফেইস বোনাস পাওয়া না গেলে কয়লাখনি গেটেই ঈদের জামায়াত করা সহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কয়লাখনির মহাব্যবস্থাপক (এমডি-মাইনিং) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, ইতোপূর্বে শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের ফেইস বোনাস নিয়মিত পেলেও এবার কিছু জটিলতার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। বর্তমানে এক হাজার ৫৮ জন শ্রমিক ও কর্মচারী খনিতে কর্মরত রয়েছেন। প্রত্যেককে ৭-৮ হাজার টাকা করে কোল ফেইস বোনাস দিতে এক কোটি টাকা লাগে।
খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, আগে শুধুমাত্র বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদনের মাধ্যমে ফেইস বোনাস দেওয়া হতো। কিন্তু এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ফেইস বোনাস দেওয়ার সিদ্দান্ত হওয়ার কারণে সেটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় অনুমোদন হলে আগামীকাল রোববার শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে ফেইস বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে।
আমন্ত্রণ/এজি
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কোল ফেইস বোনাসের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের দুইঘন্টা ব্যাপী কর্মবিরতি পালন
মে ২৩, ২০২৬































