চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও হিরেন্দ্রনাথ বর্মন হিরু, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ৬ মাস ২০ দিন পর চালু পর এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ মেগাওয়াট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত বুধবার (২০ মে) বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে অচল তৃতীয় ইউনিটটি সচল বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে ইউনিট থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এখন তা বেড়ে উৎপাদন হচ্ছে ১৭০ মেগাওয়াট। একই সঙ্গে ১নং ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৬৫ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি স্থাপন করা হয়। প্রায় ৮ বছর সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে সেটি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস ২০ দিন পর সেটি চালু হয়ে বিদ্যুৎ শুরু হয়েছে। একইভাবে ২০০৬ সালে ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ও ২নং ইউনিট। উৎপাদন শুরু থেকেই দুই ইউনিট মিলে প্রথম দিকে ১৩০ মেগাওয়াট, কখনো ১৫০ মেগাওয়াট। এরপর ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে ১১০ মেগাওয়াটে এসে দাঁড়ায়। এরপর ২০২০ সালের নভেম্বরে ২নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এখন সেটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ৩নং ইউনিটটি সচল হওয়ার আগ থেকে চালু রয়েছে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিট। বর্তমানে ১নং ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৬৫ মেগাওয়াট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। জোড়াতালির মেরামতে বারবার ত্রæটি দেখা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতিটি ইউনিট চালাতে দুইটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন। ২০২২ সাল থেকে ৩ নং ইউনিটের দুইটি পাম্পের একটি বিকল। ঝুঁকি নিয়েই একটি পাম্প দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছিল, যার কারণে মাঝেমধ্যেই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যেতো।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিস সূত্রে জানা যায়, কয়লাখনির একমাত্রা ক্রেতা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালু না থাকায় চাহিদানুযায়ী কয়লাও তারা সরবরাহ না নেওয়ায় খনির কোল ইয়ার্ডে মাত্রাতিরিক্ত কয়লার মজুদ বেড়ে গেছে। এতে কোনো সময় আগুন লাগছে, আবার কোনো সময় কয়লার চাপে দেওয়াল ভেঙ্গে পানির সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে কয়লা। সবমিলিয়ে খনির কোল ইয়ার্ডের মজুদ কয়লা নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষ চরম বেকায়দায় পড়েছেন।
আমন্ত্রণ/এজি






























