গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রী শিউলী বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর গলা কাটা লাশ কলাবাগান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার সাখে জড়িত অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী ফরিদ উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবী পারিবারিক কলহের কারণে হত্যার পর লাশটি বাড়ীর পাশের কলাবাগানে ফেলে রেখে অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দীন যায়।
গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কাটাবাড়ী গ্রামের বাগদা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদের বাড়ির পাশে কলাবাগান থেকে শিউলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত শিউলী বেগম ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফরিদ উদ্দীনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের বোগদহ সদর কলোনী এলাকার শরীফ মিয়া ড্রাইভারের মেয়ে। তাদের ১২ বছরের সংসার জীবনে ৮ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে শিউলীকে নির্যাতন করতেন ফরিদ। গত শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে ফরিদ শিউলীকে মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পাশে কলাবাগানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। গাইবান্ধা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার সি- সার্কেল রশিদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহত শিউলীর বাবা শরীফ মিয়া ড্রাইভার ও স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত জামাই ফরিদ। সে পরিকল্পিত ভাবেই শিউলীকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকন্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা বুলবুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর পলাতক শিউলির স্বামী ফরিদ উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































