অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
শীতের দাপট কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন বোরো চাষে। প্রত্যেক এলাকার কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে বোরো ক্ষেতেই। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে এ বছর প্রায় প্রত্যেক ক্ষেতেই পুরুষ কৃষি শ্রমিকের চেয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী কৃষি শ্রমিকের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার এ উপজেলায় ১৪ হাজার ১৭৯ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেভাবে প্রত্যেক এলাকার কৃষকরা বোরো চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তাকে শেষতক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষাবাদ হবে। নিচু জমিতে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে অন্তত ১৫ দিন আগে। এখন ধীরে ধীরে উঁচু ও নিচু সব জমিতেই বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক।

বুধবার (২১ ফেব্রæয়ারি) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯১ শতাংশ এবং বাতাসের গতি শূন্য নটস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর (ধামাহার) এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুল হোসেনের জমির বীজতলা তলা থেকে বোরো চারা তোলা এবং পার্শ্বের ক্ষেতে বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন একদল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী কৃষি শ্রমিক। কাজের সাথে সাথে নিজের ভাষায় গানও গাইছেন ওইসব কৃষি শ্রমিক নারীরা।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী কৃষি শ্রমিক কৃস্তিনা সরেন ও লিলি হাঁসদা বলেন, তারা এক সঙ্গে ৯ জন দলবদ্ধ হয়ে জমিতে বোরো চারা তোলা ও রোপণের কাজ নিয়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত পানি জমাট বাঁধা ক্ষেতে বোরো চারা তোলা ও রোপণের কাজ করতে হচ্ছে তাদেরকে। শীত না থাকলেও হিম শীতল বাতাসের জন্য এখনও কনকনে শীত লাগছে শরীরে। এতে করে মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কেউ না কেউ। এমন অবস্থায় কাজ করতে মন চায় না, কিন্তু কাজ না করলে ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে এজন্য যতকিছুই হোক কাজ ফেলে ফেলে রাখা যাবে না। তবে তাদের আপেক্ষ সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত জমিতে একই সমান কাজ করে তাদের মজুরি দেওয়া হচ্ছে এলাকাভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। আর পুরুষদের দেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। নারীদেরও একটু মজুরি বাড়ানোর দাবি তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, গত আমন মৌসুমে কৃষকরা ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবার বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদেরকে বোরো আবাদের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের মাঠে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থানসহ আবাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।


































