বগুড়া ব্যুরো:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় গুলিতে কলেজ ছাত্র মনিরুল ইসলাম মুনির (২৪) নিহতের ঘটনার ১০ মাস পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগের ৩৫ নেতাকর্মী এক এসআই ও এক সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জন আসামী করা হয়েছে।
নিহত কলেজ ছাত্র মনিরুল ইসলাম মুনি বাবা শামছুল হক ফকির বাদি হয়ে ১৬ জুন সোমবার রাতে দুপচাঁচিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। নিহত মুনির নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার বদলগাছী বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং কাহালু উপজেলার বীরকেদারের শামছুল হক ফকিরের ছেলে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, সহসভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক, সাবেক পৌর মেয়র বেলাল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদুর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল হোসেন মহলদারসহ আওয়ামী লীগ ও কৃষকলীগ সহযোগী সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীদের নামে এ মামলা দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে ২৯নং আসামী হিসেবে তৎকালীন সময়ে দুপচাঁচিয়া থানায় কর্মরত এসআই পলাশ অধিকারি এবং ৩৩নং আসামী হিসেবে দৈনিক কালবেলার কাহালু উপজেলা প্রতিনিধি এবং কাহালু প্রেসক্লাবের তিন বারের সভাপতি মুনসুর রহমান তানসেনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে মিছিলের ওপর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে মুনির গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ মুনিরকে আন্দোলনকারীরা উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা শামছুল হক ফকির কালবেলাকে বলেন, মামলায় সাংবাদিকের নাম আছে তা তিনি জানেন না। তাকে দেখেনওনি কোনদিন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে তিনি বিষয়টি দেখবেন।
মামলার আসামী সাংবাদিক মুনসুর রহমান তানসেন বলেন, ঘটনার দিন ও সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আমি কাহালুতেই ছিলাম। আমার ভাড়াবাসায় পরিবার পরিজনের সঙ্গে ছিলাম। দুপচাঁচিয়া যাবার প্রশ্নই ওঠেনা। মুলত হয়রানি করার জন্য মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত করে আসামীদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































