বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি’ থেকে ১৭টি লোহার গ্রিল চুরি করে পালানোর অভিযোগে ভ‚মি অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌস আলম ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ স্বপন কুমার রবিদাসের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা সুরুত জামান মাসুদ বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ফেরদৌস আলম আমরুল ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের অফিস সহায়ক এবং গ্রাম পুলিশ স্বপন কুমার রবিদাস আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের চাকুরি করতো। ঘটনার পর থেকেই দুই জনই পলাতক রয়েছে।
সোমবার (৭ এপ্রিল) ভোরের দিকে ভ‚মি কার্যালয়ের কর্মচারী ফেরদৌস আলম ‘বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি’ ভবন থেকে ১৭টি লোহার গ্রিল খুলে দুটি ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ স্বপন কুমার রবিদাস তাকে এ কাজে সহায়তা করছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে। এসময় ফেরদৌস আলম লোহার গ্রিলগুলো উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে এসি ল্যান্ডকে ফোন দেওয়ার পর ফাঁস হয় আসল ঘটনা। ফেরদৌস অনুমতি ছাড়াই এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও ঘটনাস্থলে না আসায় মালামালসহ ফেরদৌসকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে উদ্ধার করা মালামাল উপজেলার আমরুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের (ভারপ্রাপ্ত) জিম্মায় দেওয়া হয়।
উপজেলা ভ‚মি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ডেমাজানী গ্রামে বলিহার রাজার বাসভবন বা কাছারিবাড়ি কয়েক একর জায়গায় অবস্থিত। চুন-সুরকি ও ইটের গাঁথুনির দ্বিতল বিশিষ্ট স্থাপনাটি কয়েক শ বছরের পুরোনো। জনশ্রæতি রয়েছে, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৫৮-১৭০৭) নওগাঁর বলিহারের জমিদার নৃসিংহ চক্রবর্তী বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকার জায়গির লাভ করেন। জায়গির লাভের পর তিনি শাজাহানপুরের ডেমাজানী বন্দরে রাজবাড়ি গড়ে তোলেন। সেই থেকে এটি বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমরুল ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌস আলম দাবি করেন, ‘বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি থেকে মালামাল খোয়া গেছে। এ কারণে গ্রিলগুলো উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই অন্যত্র সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম।’ আমরুল ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘লোহার ১৭টি গ্রিল আমার জিম্মায় বুঝে পেয়েছি। গ্রাম পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) জান্নাতুল নাইম বলেন, ‘বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি এখন সরকার দেখভাল করে। ইউনিয়ন ভ‚মি কার্যালয়ের কর্মচারী ফেরদৌস আলম অনুমতি ছাড়াই কাছারিবাড়ি থেকে জানালার গ্রিল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চোরাই মালামাল উদ্ধার করে আমরুল ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় বলিহার রাজার কাছারিবাড়ি থেকে ১৭টি গ্রিল চুরি অফিস সহায়ক ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
এপ্রিল ৯, ২০২৫


































