রফিক প্লাবন, দিনাজপুর :
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষিত মানুষের মুক্তি সাধনে নিবেদিত সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনাজপুর জেলা সংসদের চতুর্দশ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“আমরা তো লড়ছি সমতার মন্ত্রে- থামবো না কখনোই শত ষড়যন্ত্রে” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে জেলা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পকলা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লোকশিল্পী আজিম উদ্দিন সরকার।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি রেজাউর রহমান রেজু ও জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলাম। এসময় পতাকা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাবিবুল আলম ও একরামুল কবির ইল্টু। পরে প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় শোভাযাত্রা কর্মসুচি বাতিল করে প্রেসক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে ক্লাবের পাশেই উদীচীর নিজস্ব কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাবিবুল আলম ও একরামুল কবির ইল্টু, রেজাউর রহমান রেজু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহবায়ক জলিল আহমেদ। এছাড়া প্রভাষক হারুন উর রশিদ এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আমাদের থিয়েটারের তারেকুজ্জামান তারেক, মনি মেলার নুরুল মতিন সৈকত, দিনাজপুর নাট্য সমিতির নির্বাহী সদস্য রবিউল আউয়াল খোকা এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কানিজ রহমান।
হাবিবুল আলম বলেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শুধুমাত্র একটি গান বা সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, তার একটি রাজনীতি আছে। সেই রাজনীতি হচ্ছে- শোষিত মানুষের মুক্তি। কিভাবে শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করে শোষিত মানুষের মুক্তি আনা যায়, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর রাজনীতি হচ্ছে এই মতবাদ। আর সেই রাজনীতি বা মতবাদ বাস্তবায়নের জন্যই উদীচী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
একরামুল কবির ইল্টু বলেন, যেকোন বৈষম্য এবং যেকোন লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় উদীচী। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের যে আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, আমরা তার সাথে সক্রিয়ভাবে ছিলাম। তিনি বলেন, আমার জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে যে যখনই যাই করবেন, আর কেউ যদি প্রতিবাদ না জানায়, আমরা উদীচীর পক্ষ থেকে দাড়াবো। এটা উদীচীর নৈতিক দায়িত্ব। এই প্রতিবাদের জায়গাটা জারি রাখতে না পারলে ক্রমেই আমাদের ঘরে ঢুকে যেতে হবে।
রেজাউর রহমান রেজু বলেন, মানুষের আকাঙ্খা ও চাহিদার সঙ্গে না থাকলে যতই ক্ষমতাধর হোক, ক্ষমতায় থাকা যায় না, তার প্রমান আমরা পেয়েছি অল্প কয়েকদিন আগেই। তিনি বলেন, হাজার বছরের যে সংস্কৃতি লালন করে বাঙালি জাতি পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বুক ফুলিয়ে দাড়িয়ে যুদ্ধ করে আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা চাই যে বা যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসুক এই মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করতে হবে।
অধ্যক্ষ হাবিবুল ইসলাম বলেন, যেখানেই অসাম্য, অন্যায়, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সেখানেই উদীচীর নিরন্তন লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আলোচনা সভা শেষে দ্বিতীয় পর্বে উদীচীর সত্যেন সেন ভবনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন বন্ধু প্রতীম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় দিনাজপুর নাট্য সমিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কারন বিতরণ করা হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি
<div style='text-align: center;'> <h2 style='color: #ff0000; font-size: 16px; margin: 0;'>উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনাজপুর জেলা সংসদের চতুর্দশ জেলা সম্মেলন বক্তারা :</h2> <h1 style='color: black; margin: 0;'>শোষিত মানুষের মুক্তি ও শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদীচী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে’</h1>
জানুয়ারি ৩১, ২০২৫


































