বগুড়া ব্যুরো :
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ‘অভ্যুত্থান চার মাস হয়ে গেল। এই চার মাসে সত্যি কথা বলতে প্রত্যাশা যতটুকু ছিল ততটা পুরণ হয়নি। কারণ ৫ আগস্টে এতো জীবন এতো রক্তের বিনিময়ে যে নতুন একটা স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেটার প্রত্যাশার পারদ ছিল সর্বোচ্চ লেভেলে। কিন্তু সেই লেভেল পুরণ করা আদৌও সম্ভব কিনা তা আমি জানি না। তবে একটা স্ট্যান্ডাট লেভেল পর্যন্ত নেমে আসবে। এই সরকারের সবচে বড় চ্যালেঞ্জ বা আমাদের প্রত্যাশার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ওই স্ট্যান্ডটটা পুরণ করা।
আজ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বগুড়া শহরের মালতিনগর স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ব্যক্তিগত সফরে এসে সারজিস আলম গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ভারত যদি মনে করে বিগত ১৬ বছর যেভাবে আওয়ামী লীগকে নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশকে শুষে নিয়েছে, সেই সুযোগ বাংলাদেশের জনগণ আর দিবে না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিবেশীর মত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন সম্পর্ক তিক্ততার হবে কি না তা ভারত কাজের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানুষ এখন শতভাগ ঐক্যবদ্ধ। ভারতের কিছু মেরুদন্ডহীন মিডিয়া সা¤প্রদায়িক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে, সা¤প্রদায়িক উস্কানী দেয়া হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর নামের কারণেই বৈষম্যের শিকার হয়েছে বগুড়া। বগুড়া নিয়ে আমাদের অনেক কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে বগুড়ায় একটা প্রোগ্রাম করার কথা ভাবছি। ইয়াং জেনারেশনকে নিয়ে অনেক বড় একটি প্রোগ্রাম করা হবে। পুরো উত্তরের আমাদের হিসাব মতে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের যে ১৬টি জেলা আছে তার মধ্যে ‘অভ্যুত্থান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ত্যাগ স্বীকার করেছে বগুড়া। এই ১৬ জেলার মধ্যে সবচে বেশি শহীদ ও আহত হয়েছে বগুড়ার মানুষ। সেই সঙ্গে সবচেয়ে রক্তাক্ত এবং রক্ত দিয়েছে এই বগুড়া জেলার মাটি। সেই জায়গা থেকে আমাদের আলাদা একটা দায়বদ্ধতা আছে।
তিনি আরোও বলেন ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশ গড়া, সিস্টেমগুলো সংস্কার করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এভাবে যাবো এবং আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে কাজগুলো করবো।’
বগুড়া শহরের মালতিনগর স্টাফ কোয়ার্টার বটতলায় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর বাসায় সারসিজ আলম পারিপারিক সফরে আসেন। সঙ্গে তার বাবা- মা ছিলেন। সারজিস আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগেই বলেন ব্যক্তিগত বিষয়ে কোন প্রশ্ন করা যাবে না। যে বাড়িতে তিনি এসেছিলেন সেই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলীও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
‘অভ্যুত্থানের চার মাসে প্রত্যাশা যতটুকু ছিল ততটা পুরণ হয়নি -বগুড়ায় সারজিস আলম
ডিসেম্বর ৬, ২০২৪


































