পঞ্চগড় সংবাদদাতা :
পঞ্চগড়ে হোমিও দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হোমিও চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ রায়। হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি ভেজাল ও অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির অভিযোগে ওই হোমিও চিকিৎসককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
ফুড সাপ্লিমেন্ট ওষুধ হিসেবে চালানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে টার্গেট করা হতো মেয়েদের, শিক্ষক মহল ও সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের। বিভিন্ন লোভ-লালসা দেখিয়ে এই পেশায় যোগদান করানো হয়েছে বহু সংখ্যক ব্যক্তিকে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ডেসটিনির মতো প্রচুর মানুষ সদস্য হয়ে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে শনিবারে তার চেম্বারে রীতিমতো মানুষের হাট বসত। যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না যে তারা অবৈধ পণ্য বাজারজাত ও বিক্রি করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রোডাক্টে মূল্যের ট্যাগ লাগানো হতো এবং প্রতিটি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হতো তাদের ইচ্ছামতো। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ এসব পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের বানিয়াপট্টি এলাকায় অবস্থিত রায় হোমিও হল এবং অপুলেন্ট ই-কমার্স ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ. এস. এম. মাসুম-উদ-দৌলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মাসুদ হাসান এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জয় চন্দ্র বর্মন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অপুলেন্ট ই-কমার্স ইন্টারন্যাশনালের প্রায় ১৩ ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য ওষুধ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল, যার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। পণ্যের গায়ে মূল্য উল্লেখ না থাকার পাশাপাশি কিছু মসলা জাতীয় পণ্যে, বিশেষ করে হলুদের গুঁড়ায় চক পাউডারের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ. এস. এম. মাসুম-উদ-দৌলা বলেন, ফুড সাপ্লিমেন্টকে ওষুধ হিসেবে প্রচার বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অভিযানের সময় আমরা এসব পণ্যের বৈধতার পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পাইনি। কর্তৃপক্ষকে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। সে পর্যন্ত তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত পণ্যগুলো সিভিল সার্জনের প্রতিনিধির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
আমন্ত্রণ/এজি


































