বগুড়া ব্যুরো ও গাবতলী প্রতিবেদক :
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় নিহত প্রবাসী রফিকুল ইসলামের পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী জাহানারা বেগম তিন মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে সহায়তার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কেউ এগিয়ে না আসায় সরকারি সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন অসহায় এই পরিবার।
জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি পরিচিতজনের মাধ্যমে কাজের ভিসায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের শেখাহাতি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। সেখানে মাত্র তিন মাস কাজ করেন তিনি। চার মাসের মাথায় অর্থাৎ জুলাই মাসের শেষের দিকে এক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।পরে আগস্ট মাসে তার লাশ দেশে আসে। তারপর থেকেই তার সংসারেনেমে আসে অন্ধকার।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম জীবদ্দশায় রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট টিনের ঘরে বসবাস করছেন জাহানারা বেগম ও তার তিন মেয়ে। ঘরে রয়েছে মাত্র একটি খাট। দরজার সামনে বসে থাকা মা ও সন্তানদের মুখে স্পষ্ট হতাশা ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই জাহানারা বেগম অন্যের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয় তাদের। বড় মেয়ে মিম খাতুন (১৬) আগে হাফেজি লাইনে পড়াশোনা করলেও টাকার অভাবে এখন আর মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। মেজ মেয়ে ছোয়াইবা খাতুন (৫) ছোট মেয়ে রোজা মনি (২)।
জাহানারা বেগম বলেন, স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে জমি বিক্রি করেছি, ঋণও আছে। এখন বুঝতে পারছি না মেয়েদের খাওয়াবো, নাকি তাদের পড়াশোনা চালাবো। খুব কষ্টে আছি। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে বাচ্চাদের নিয়ে বাঁচতে পারতাম।
এলাকাবাসীর মতে, পরিবারটির জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক ও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। তিন কন্যাসন্তান নিয়ে জাহানারা বেগমের এই অনিশ্চিত জীবন দ্রুত স্বাভাবিক হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
নারচী ইউনিয়ন যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, রফিকুল ইসলাম বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং সবসময় দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন বিপদগ্রস্ত। পরিবারের কেউ উপার্জনক্ষম নয় এবং তারা খুব অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। আমি সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।
কৃষক দল নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, রফিকুল ইসলাম দুর্যোগকালীন সময়ে দলের প্রাণভোমরা ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে পরিবার এখন সম্পূর্ণ অসহায়।
নারচী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফতাব হোসেন বাচ্চু জানান, রফিকুলের স্ত্রী তার তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে এবং সঠিকভাবে তিনবেলা খাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা রফিকুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের সহায়তা প্রদান করে। সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে: ০১৭৬৮-০৪৩৫০৯।
আমন্ত্রণ/এজি
সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান সারিয়াকান্দিতে তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন, লেখাপড়া বন্ধ
মার্চ ৩১, ২০২৬
































