ফরিদ আহমেদ, বোচাগঞ্জ :
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা সড়কে দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকার বাসিন্দা মাদার কেয়ার হাসপাতালের স্বত্তাধীকারী ডা. হযরত আলী হেলথ কমপ্লেক্স নামে একটি আলিশান বানিজ্যিক ৯ তলা ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছেন। এই ভবন নিয়ে চলছে পৌরবাসীর মনে নানা গুঞ্জন।
জানা গেছে, ডা. হযরত আলীর শ^শুর বাড়ী সেতাবগঞ্জ পৌরসভার শহীদপাড়ায় সেই সুবাদে ডা. হযরত আলী সেতাবগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্রে হেলথ কমপ্লেক্স নামে একটি বানিজ্যিক ৯ তলা আলিশান ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন গত বছর। ভবন নির্মাণ আইন লংঘন করে কোন রকম নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণ শ্রমিকেরা কাজ করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এরই মাঝে এক শ্রমিক ৩য় তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। সেই ভবন আজ দৃশ্যমান ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অট্টালিকা। ভবন নির্মানের আগেই সেতাবগঞ্জ পৌরসভা থেকে ভবন নির্মানের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ডা. হযরত আলী ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার অনেক পরে অনুমোদন প্রাপ্ত হন ৬ তলা ভবন নির্মানের। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ডা. হযরত আলী ৬ তলা ভবনের স্থানে বেজমেন্টসহ ৯ তলা ভবন নির্মানের কাজ শেষ করেন। এখন চলছে পলেস্তারার কাজ। পৌরসভার বিল্ডিং কোর্ড মতে অনুমোদনের বাহিরে কোনমতেই ভবন বড় করা যাবে না।
এই বিষয়ে সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ভরত চন্দ্র পাল বলেন, ডা. হযরত আলীকে আমরা ৬ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছি। এর বাহিরে যদি তিনি ভবন ৯ তলা করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ভবন মালিকক উপরি অংশ ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এই কথায় সিমাবদ্ধ সেতাবগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ। বাস্তবে কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি।
দিনাজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, এটা যেহেতু বানিজ্যিক ভবন তাই আমরা নিরাপত্তার বিষয়টা দেখছি। অনুমোদিত নক্সার বাহিরে ভবন নির্মান হলে তা পৌরকর্তৃপক্ষ দেখবে। এলাকাবাসী বলছেন, চোখের সামনে ডা. হযরত আলী কমপ্লেক্স নামে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই।
হেলথ কমপ্লেক্সের তত্ত¡াবধায়ক ডা. হযরত আলীর ছেলে মো. তাজমিরুল ইসলাম বলেন, আনুমোদনের চেয়ে সামান্য কিছু অংশ বৃদ্ধি করে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
সেতাবগঞ্জ পৌরশহরে ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে নয়তলা ভবন নির্মাণ, নিরব পৌর কর্তৃপক্ষ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪
































