গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আমন মৌসুমে সার ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সার ডিলাররা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘খামারি অ্যাপ’-এ জমির ধরন ও ফসল বিবেচনায় যে পরিমাণ সার ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে, অনেক কৃষক তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সার দাবি করছেন। এতে কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে।
সার ডিলারদের অভিযোগ, খামারি অ্যাপে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে অতিরিক্ত সার বিক্রি করলে সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার না দিলেও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে। ফলে উভয় সংকটে পড়েছেন ডিলাররা।
উপজেলার ১ নম্বর বুলাকিপুর ইউনিয়নের সার ডিলার আহম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইশতিয়াক আহম্মেদ খান জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই সার বিক্রি করতে চান তারা। বিশেষ করে টিএসপি সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খামারি অ্যাপে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ কেজি টিএসপি ব্যবহারের সুপারিশ থাকলেও অনেক কৃষক ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সার নিতে আসছেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলায় বর্তমানে ১৯ জন সার ডিলার রয়েছেন। তাদের জন্য প্রতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১৩৫ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ নিয়েও চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিলাররা।
অন্যদিকে কৃষকদের দাবি, শুধু অ্যাপে দেওয়া সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে সব জমির সারের চাহিদা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। জমির ধরন, মাটির উর্বরতা, আগের ফসল এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেক সময় অতিরিক্ত সার প্রয়োজন হয় বলে তারা মনে করছেন।
কৃষক আব্দুল আলিম ও আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন কোন জমিতে কতটুকু সার প্রয়োজন। অ্যাপে কম সার ব্যবহারের সুপারিশ থাকলে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার প্রয়োগে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলেই ফলন বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ‘খামারি’ অ্যাপেও মাটির উর্বরতামান ও ফসলভিত্তিক সার ব্যবহারের সুপারিশ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুজ্জামান জানান, উপজেলায় এবার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। ফসলের ধরন, জমির মাটির গুণাগুণ ও প্রয়োজন বিবেচনা করেই খামারি অ্যাপে সারের সুপারিশ করা হয়। কৃষকদের ওই সুপারিশ অনুযায়ী সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারে কৃষক লাভবান হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ডিলারদেরও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিক্রি করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খামারি অ্যাপে সারের সুপারিশের বিষয়টি কৃষকদের কাছে আরও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাঠের বাস্তব অবস্থা ও অ্যাপের সুপারিশের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা দরকার। আমন মৌসুমে কৃষকের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও ডিলারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
আমন্ত্রণ/এজি
সার ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিপাকে কৃষক ও ডিলার
আগস্ট ২৩, ২০২৬
































