মাহমুদুল হাসান মুনজু, সারিয়াকান্দি :
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাওহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ তাওহিদ ইসলাম ও তার পিতা আলী আজগর ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বিদ্যালয়টির জমি ক্রয়, শিক্ষকদের চাকুরি স্থায়ীকরণ ও এমপিওভুক্ত করার কথা বলে ৪৩ জন শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোজিনা আকতার জানান, কলেজের নামে প্রায় ৩৯ শতক জায়গা ক্রয় করা হয়। বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে ৮ শতক জায়গা অধ্যক্ষ নিজ পরিবারের নামে দলিল করে নিয়েছে। শিক্ষিকা জামিলা আকতার বলেন, দলিল করার পর থেকে অধ্যক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে নানারকম প্রতারণা করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান, রেজুলেশনে ৪৩ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর দেখালেও ৮ বছর ধরে আমরা ১২/১৩ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছি। অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানারকম টালবাহানা করায় এখন আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ তাওহিদ ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজগর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দানস্বরুপ কিছু অর্থ তাদের কাছ থেকে দাতা হিসেবে রশিদমূলে গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্কুলের নামে সাড়ে ২০ শতক জায়গা কেনা হয়েছে। আরো ১০ শতক জায়গা দাতারা দান করবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। সেটি এখনও দলিল করা হয়নি। স্কুলের টাকা দিয়ে আমার পরিবারের নামে দলিলের বিষয়টি মিথ্যা। ৮ শতক জমি আমার বাবা মার নামে নিজেদের টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি ( কবলা) করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের কাছে জানতে তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
সারিয়াকান্দিতে মুক্তিযোদ্ধা স্কুল-কলেজের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৪


































