বগুড়া ব্যুরো :
আজ ১৪ ডিসেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাবাসীর জন্য গুরুত্ব পূর্ণ দিন। এ দিন শিবগঞ্জ থানায় স্বাধীন দেশের পতাকা উড়েছিল। আজকের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয়েছিল শিবগঞ্জ থানা। ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা বাঙ্গালীর আত্ন পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরনীয় সংগ্রামের দিন। ৭১ এর সেই স্মৃতি দীর্ঘ ৫৪ বছরেও উপজেলাবাসীর মনে জড়িয়ে আছে নানা স্মৃতির। দেশের বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে হানাদার মুক্ত হয়েছিল এই থানা। উড়েছিল বিজয়ের লাল সবুজ পতাকা। এই কারণে এ দিনটি শিবগঞ্জবাসীর কাছে স্মরনীয় একটি দিন। এই দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হওয়ায় মুক্ত দিবসের কোন কর্মসুচি সরকারিভাবে পালন করা না হলেও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসুচি পালন করে।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ মার্চের পর সারা দেশের ন্যায় শিবগঞ্জের মানুষ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তারা ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে। ২৩ মার্চ শিবগঞ্জ মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাহসিকতার সঙ্গে পাকবাহিনীর পতাকা নামিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয় লাল সবুজের পতাকা। স্থানীয় আব্দুল মজিদ নামে এক ব্যক্তি (বর্তমানে মৃত) এই পতাকা উড়িয়েছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ২৫ মার্চের ভয়াবহ ঘটনা অত্র থানার মানুষকে উত্তেজিত করে তোলে। তারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আত্ন প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে হামলার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। ২৬শে মার্চ সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। এর পর ২৭ মার্চ শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে খালি হাতে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ৭ এপ্রিল থেকে প্রশিক্ষণ জঙ্গি আকার ধারন করে। তারা বিভিন্ন প্রবেশ পথে গাছ কেটে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। এপ্রিল মাসের শেষ দিকে শাহজাহান কবির বাদশা (বর্তমানে মৃত)তার দলবলসহ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যায়। মে মাসে হানাদার বাহিনী প্রথম এই এলাকায় আক্রমণ চালায়। তাদের আক্রমণে সে দিন আবুল হোসেন নামের এক পানের দোকানদার নির্মমভাবে শাহাদৎ বরণ করে। এরপর হানাদার বাহিনী থানার ময়দানহাট্টা গ্রামে ১১ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন থেকে শুরু হয় স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের নির্যাতন-নিপীড়ন।
এর পর থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধ চলতে থাকে। ১৩ ডিসেম্বর মোকামতলা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে হানাদার বাহিনীর চরম সংঘর্ষ বাধে। এসময় টেংরা নামক স্থানে হাফিজার রহমান তারসহ যোদ্ধাদের নিয়ে হানাদার বাহিনীদের ধাওয়া করে। ঠিক সেই সময় হানাদার দের একটি বুলেট হাফিজারের বুকে লেগে তিনি শহীদ হন। হাফিজারই শিবগঞ্জে একমাত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। এরপর দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণে হানাদার বাহিনী তাদের অবস্থান গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ফলে ১৪ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।
আমন্ত্রণ/এজি
শিবগঞ্জে স্বাধীন দেশের পতাকা উড়েছিল ১৪ ডিসেম্বর
ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
































