বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে জামায়াতের ৩ নেতাকর্মিকে আহত করেছে বিএনপি। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এবিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার করেনি।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের উত্তর বেলাই গ্রামে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থিত একদল দাঙ্গাবাজ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী অফিসে হামলা করে। এই হামলায় জামায়াতে কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শাহ জালাল, সমর্থক রশিদুল ইসলাম ও আবু তাহের গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে শাহ জালালকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিভিন্নগোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন।”
তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এজাহার গ্রহণের পরও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন অভিযোগ করেন, “শিবগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসন এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি।”
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানসহ নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনা অস্বীকার করে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জামায়াত এই বায়বীয় অভিযোগ এনেছেন।
এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, যেস্থানের কথা বলা হচ্ছে তা সরকারি জায়গা। সেখানে কোনো নির্বাচনি অফিস ছিল না। তবে জামায়াত সেখানে অফিস তৈরির কাজ
করছিল। তখন বিএনপি ৩/৪ জন গিয়ে বাধা দিলে হাতাহাতি হয়। পরে তারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাতে কিছু অসংগতি ছিল। তা সংশোধন করে নতুন করে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো তা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি
শিবগঞ্জে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী অফিসে বিএনপির হামলা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬


































