বগুড়া ব্যুরো ও শাজাহানপুর প্রতিবেদক :
বগুড়ার শাজাহানপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে রোবাইয়া আক্তার পৌশি (১৮) নামে এক নববধূকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌশির বাবা আবু বাদশা বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শাজাহানপুর উপজেলার খরণা ইউনিয়নের কড়িআঞ্জুল দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে শিহাব উদ্দিনের (২১) সঙ্গে গত ৬ মাস আগে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের ধামাইর গ্রামের আবু বাদশার মেয়ে রোবাইয়া আক্তার পৌশির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ বাড়ির লোকজন পৌশিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মেয়ের সুখশান্তির কথা চিন্তা করে পৌশির বাবা ৫০ হাজার টাকা দেন। কিছুদিন পর আরো ২ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু পৌশি তাতে রাজি না হলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সকালে পৌশিকে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে পৌশিকে তার শয়ন ঘরে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদি পৌশির বাবা আবু বাদশা জানান, ঘটনার দিন বেলা ১২টার দিকে বিয়াই (ছেলের বাবা) আবুল কালাম আজাদ ফোন করে বলেন যে পৌশি স্টোক করেছে। খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে মেয়ের বাড়িতে এসে মেয়েকে বারান্দায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তারা বলে যে, পৌশি আত্মহত্যা করেছে। এতে সন্দেহ হলে প্রতিবেশিদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে ঘটনার দিন সকালে পৌশি তার স্বামীকে পরকীয়া করতে নিষেধ করলে তাকে মারপিট করে। পরে শয়ন ঘরে নিয়ে গিয়ে গলাটিপে হত্যা করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ করিম জানান, মামলা হয়েছে। মরদেহের গলায় এবং শরিরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পোস্টমর্টেম রির্পোট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































