গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আখ চাষ করে বিপাকে পড়া নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের আখচাষীরা আখের গুড় তৈরী করছেন। আগে তাদের উৎপাদিত আখ সহজে রংপুর চিনিকলে কাছে সরবরাহ করতেন। কিন্ত চিনিকলটি ৪ বছর ধরে বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গুড় তৈরীর বিকল্প ব্যবস্থা বেছে নিয়েছে আখচাষীরা । তবে বাজারে গুড়ের চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার করতোয়া, কাটাখলি, ও বাঙালি নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বন্যার কারণে অন্য ফসল চাষ করা ঝুঁকিপুর্ণ এবং ক্ষতির আশংকা থাকায় কৃষকরা বন্যা সহনশীল হওয়ায় অন্যান্য ফসলের বদলে এসব এলাকায় আখ চাষে বাধ্য হয়। কিন্তু জেলার একমাত্র কৃষি ভিত্তিক শিল্প উপজেলার মহিমাঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল বন্ধ থাকায় আখের বাজারজাত করা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়লেও এখন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আখের গুড় তৈরী করে সে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা।
রংপুর চিনিকল সুত্রে জানা গেছে এবার এই চিনিকল জোন এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫৭ একর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। আর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্র মতে এবার প্রায় ১০৩ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আগে কৃষকরা তাদের জমির সমুদয় আখ সরবরাহ করতো রংপুর চিনিকলে। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে এই চিনিকল টি সংস্কারের কথা বলে বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তারপর থেকেই আখ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েন আখ চাষীরা। যদিও এই চিনিকল জোন এলাকার আখ এখন সরবরাহ করা হয় পাশর্^বর্তী জয়পুরহাট চিনিকলে। কিন্ত সেখানে সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা থাকায় আরো সমস্যায় পড়ে কৃষকরা। এসব নানা জটিলতা থেকে বাঁচতে এলাকার আখ চাষীরা পাওয়ার ক্রাশারের সাহার্যে জমির আখ মাড়াই করে শুরু করেন গুড় উৎপাদন। বাজারে আখের গুড়ের চাহিদা থাকায় এবং গুড়ের দাম ভাল পাওয়ায় বেড়েছে এই গুড় উৎপাদন।
গুড় উৎপাদনকারী কৃষকরা জানান এবার এক মণ গুড় বাজারে ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক বিঘা জমির আখ মাড়াই করে তৈরী করা গুড় থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তবে এই এলাকার বেশীভাগ কৃষক মনে করে গুড় তৈরি করার চেয়ে চিনিকলে আখ সরবরাহ করে সহজে অর্থ আয় করা যায়। কারণ হিসেবে তারা মনে করেন আখ বিক্রির টাকা একবারে পাওয়া যেত সংসারের নানা দায়দেনা সহ নানা কাজে লাগতো। কিন্ত গুড় বিক্রির টাকা লাভ হলেও দিনে খরচ হয়ে যায়।
মাড়াই কলের পাড় থেকে গুড় কিনতে আসা পাইকারি গুড় ক্রেতা মমতাজ আলী বলেন দেখে শুনে গুড় কেনার সুবিধা থাকায় এখানে এসে গুড়ের গুণগতমান নিশ্চিত হয়ে দামদর করে গুড় কেনার সুবিধা রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মেহেদী হাসান, সুগার মিল বন্ধ থাকায় এবং বাজারে গুড়ের দাম বেশী থাকায় নদী পাড়ের আখচাষীরা গুড় উৎপাদন করছে। কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে গুড়ে যাতে বিষাক্ত কিছু না মেশানো হয়। এছাড়াও কৃষকরা চাইলে নির্ভেজাল গুড় বাজারজাত করণের ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে। তবে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রংপুর চিনিকল পুন:রায় চালু করে সরকার এই এলাকার আখ চাষীদের আখের বাজারজাত করণে বহুমুখী সুবিধা প্রশস্ত করবে এমনটি দাবী এলাকার মানুষের।
আমন্ত্রণ/এসিজি
রংপুর চিনিকল বন্ধ : গোবিন্দগঞ্জে আখমাড়াই করে গুড় তৈরী করছেন আখচাষীরা
জানুয়ারি ৮, ২০২৫
































