গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ :
যার রক্ত দানে প্রাণের স্পন্দন জাগাতো অন্যের শরীরে, সেই রক্তের অভাবেই, প্রাণ গেল গোবিন্দগঞ্জের শালমারা ইউনিয়নের শাখাহাতী গ্রামের মমতাজ আলী ব্যাপারীর পুত্র গার্মেন্টসকর্মী জুয়েল রানার (৩২)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জুয়েলের রানার আয়েই চলত বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের সংসার। সেই উপর্জনক্ষম সন্তান কে হারিয়ে পিতা মমতাজ ও মাতা জামেলা বেগমের চোখে মুখে শুধুই হতাশা। আর তার স্ত্রী দুলালী বেগমের বিলাপ কেমনে বড় হবে তার দুই কন্যা সন্তান। তার সামনে কেবলি দুর্বিসহ স্মৃতি।
জুয়েল রানা গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে চাকরির সুবাদে ছুটির পর ফাঁকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতো। আন্দোলনকারীদের সাথে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলতো নানা শ্লোগানে। তাইতো বসে থাকতে পারেনি সরকারের পতনের খবরে। গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের খবরে বের হওয়া আনন্দ মিছিলে অংশ নেয় জুয়েল রানা। মিছিলটি গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমির সামনে পৌছলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর এলোপাথারী গুলিতে আহত হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পরেন জুয়েল রানা। পরে তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রæত নিয়ে যায় নিকটস্থ হাসপাতালে। সেখানে আহতদের ভিড় থাকায় তাকে নিয়ে ছুটে যায় অন্য হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা তারপর ছুটে গেছে একের পর এক হাসপাতালে কোথাও রক্ত সংকট, আবার কোথায় স্থান নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই প্রতিবাদী যুবক। কবরের পাশে বসে অঝোর ধারায় কেঁদে কেঁদে ছেলের এই অকাল মৃত্যুর কথা বলছিলেন বেষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া জুয়েল রানার পিতা মোমতাজ উদ্দীন ব্যাপারী।
তিনি বলেন আমার সন্তান যখন বাড়ীতে থাকতো তখন সে অন্যের উপকারে নানা ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করতো। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিতো। কোন জায়গা থেকে মোবাইল ফোনে ওর কাছে রক্ত চাইলে ছুটে যেতো রক্ত দেয়ার জন্য। তার দেয়া রক্ত শরীরে নিয়ে হয়তো এখনও কেউ বেঁচে আছেন। কিন্ত কে জানতো যে ছেলে অন্যকে রক্ত দান করত সেই তরতাজা ছেলেটি রক্ত অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। এখন ওর পরিবারে দুটি অবুজ সন্তান তারাই বা কি ভাবে মানুষ হবে ? পিতা হিসেবে সন্তানের লাশ ঘাড়ে তোলা এবং নিজ হাতে কবর দেয়া কত যে কষ্টের তার প্রকাশ করার ভাষা নেই।
জুয়েল রানার স্ত্রী দুলালী বেগম বলেন তার স্বামীর মৃত্যুর খবরে দাফন করা সময় অনেকেই এসেছে। অনেকেই নানা ভাবে সহযোগিতা করলেও আগামীতে কন্যা জান্তা আকতার জুঁই (৯) আর ছোট মেয়ে জিন্œাত আরা (৫) ভবিষ্যত নিয়ে। কিভাবে তাকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলব। এজন্য তিনি বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
































