প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণের কাজ আট মাসেও শুরু হয়নি। শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার র্নিমাণে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাও অলস পড়ে আছে। জেলা পরিষদের গাফলতির কারণে নকশা প্রস্তুত প্রাক্কলন তৈরি এমনকি দরপত্র পর্যন্ত আহবান করা হয়নি। ফলে বগুড়াবাসী আশাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেই আটকে আছে শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণের কাজ।
জানা গেছে, গত বছরের ১৮ মে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এরপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ রাগেবুল আহসান রিপু। শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়া জেলা পরিষদকে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
জানা যায়, ১৯৭৮ সালে বগুড়ার কারুশিল্পী প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল করিম দুলালের নকশায় শহরে শহীদ খোকন পার্কের উত্তর-পূর্ব কোণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। মিনারের উপরিভাগে পশ্চিম পাশে ক খ ও দক্ষিণ পাশে অ’ আ অক্ষর খোদায় করা ছিল। এ ছাড়া মিনারের পেছনে সুন্দর অর্থবহ ভাস্কর্য স্থাপন করা ছিল। পরবর্তীসময়ে শহীদ মিনারটি ঘিরে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাÐ পরিচালিত হতে থাকে। তবে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৫ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ মিনারটি ভেঙে ফেলে। সেখানে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ব এ ন প ঢ’ অক্ষর সজ্জিত অদ্ভুত আকৃতির একটি শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এছাড়া সে সময় পার্কে সভা-সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ নিষিদ্ধ করা হলে রাজনীতিবিদ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরপর থেকেই শহীদ মিনারটি পুনঃনির্মাণের দাবি তোলে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ। দাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে পুনঃনির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। তখন বগুড়া সদর আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু ২০২৩ সালের ১৮ মে বগুড়ায় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য তৎকালীন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এক কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রদান করেন। অর্থ বরাদ্দের নয় মাস পার হলেও শহীদ মিনার নির্মাণে অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় জনমনে না প্রশ্ন দেখে দিয়েছে।
আজ একুশে ফেব্রæয়ারিতে নতুন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না বগুড়াবাসী। এতে করে বগুড়ার সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না বলেন, একুশে ফেব্রæয়ারি চলে এলেও নতুন শহীদ মিনারে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারলাম না। এটি খুবই হতাশার ও কষ্টের। অথচ নয় মাস আগে বরাদ্দের পরপরই নির্মাণকাজ শুরু করা গেলে এতোদিন অনেকাটা কাজ এগিয়ে নেওয়া যেত। তবুও বরাদ্দ যা আছে তা দিয়ে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ কাজটি শুরু করা হোক। পুরো শহীদ মিনার চত্বর ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক বান্ধব পরিবেশের সৃষ্টি করা হোক। চেতনার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হোক।
বগুড়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোহায়েদুল ইসলাম জানান, দ্রæত দরপত্র আহবান করা হবে। এখন পর্যন্ত শহীদ মিনারের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়নি। শহীদ মিনারটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে হলেও এখনো নকশা পাওয়া যায়নি। প্রাক্কলন করে নকশা পাওয়ার পর টেন্ডার আহŸান করা হবে। জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপু জানান, ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের কাজের অগ্রগতি না থাকায় শহীদ মিনারের কাজের টেন্ডার করা যাচ্ছেনা। কাজও শুরু হচ্ছেনা। বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণে দ্রæত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিত্তিপ্রস্তরেই আটকে আছে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃনির্মাণের কাজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪


































