আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
চলতি মৌসুমে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নিম্ন অঞ্চলের পাকা-আধা পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারণে জমিতেই ভাসছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি পাকা ধান। বৃষ্টির পানিতে জমির পাকা ধান তলিয়ে পচে তা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে চাহিদা মতো মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক। ফলে চোখে-মুখে হতাশা আর চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে সরেজমিন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠে পাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে ধানের সঙ্গে ডুবছে কৃষকের স্বপ্নও। কেউ হাঁটু পানিতে নেমে ধান কাটছে। আবার কেউ কাটা ধান উঁচু স্থানে তুলছে, আবার কেউ কাটা ধানগুলো পানিতে ভাসমান অবস্থায় ছড়িয়ে থাকা একত্রে করছে। বৃষ্টির মাঝেও অনেক কৃষক আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। এসময় ধান কাটার মৌসুম শেষের দিকে। তারপরও অনেক কৃষক ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে পারেননি। আর ২/১ সপ্তাহ সময় পেলে ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে পারতেন।
কৃষকরা জানান, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়া যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেতে কেটে রাখা ধান বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। অন্যদিকে, কাটা ধানগুলো মাড়াইয়ের পর ভেজা ধান শুকানো নিয়েও রয়েছে বেশ দুর্ভোগ। বৃষ্টির কারণে বাড়ির উঠানেও কাঁদা হয়ে আছে। সড়কেও ধান শুকাতে পারছেন না তারা। বৃষ্টির কারণে নুয়ে পড়া ধান কাটতে কষ্ট হচ্ছে। আবার জমিতে পানি থাকায় কেউ কামলাও দিতে চাচ্ছে না। তবে ধান কাটতে যত না কষ্ট তার চেয়ে বেশি কষ্ট উঁচু স্থানে তুলতে। ফলে ধানের ফলন এবং দাম ভালো হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই।
ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নুর নাহার বলেন, এ উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছে কৃষক। ইতিমধ্যেই মাঠের প্রায় ৯২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। এ অবস্থায় বৃষ্টিতে সামান্য পরিমান জমির ধানক্ষেতে পানি জমেছে। তবে যেসব ক্ষেতে ধান নুয়ে পড়েছে, সেসব ক্ষেতের ধান দ্রæত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা কৃষকদের পাশে আছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বৃষ্টি যেন বোরো ধানচাষীদের কান্না হয়ে ঝরছে
মে ২১, ২০২৫
































