আজহার ইমাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
রমজান শুরুর আগের দিন থেকেই দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা শহর ও হাটবাজার থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দু’একটি খুচরা দোকানে সীমিত পরিমাণ খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও কেজিপ্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। অথচ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে আগের দামে সয়াবিন বিক্রি হলেও বিরামপুরে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই দিন আগেও বিরামপুরে চাহিদা অনুযায়ী খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই বাজারে সব ধরনের সয়াবিন তেল অদৃশ্য হয়ে যায়। পুরাতন বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে খোঁজ নিতে গেলে ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কাছে কোনো সয়াবিন তেল নেই। পরিবহণ বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
খুচরা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন জানান, দুই দিন আগে খোলা সয়াবিন ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ সোমবার পাইকারি বাজারে কিনতে গেলে দোকানিরা জানান, তাদের কাছে তেল নেই। তবে সীমিত পরিমাণ তেল যাদের কাছে রয়েছে, তারা পাইকারি দাম নিচ্ছেন ২০৫ থেকে ২১০ টাকা কেজি। ফলে খুচরা বাজারে সেই তেল ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি বিক্রেতা বেলাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন দৈনিক কালবেলা জানান, কোম্পানি থেকে তেল নিতে গেল কোম্পানি স্বল্প পরিমান তেল দিয়ে তেলের পরিবর্তেতে আটা ও চিনিগুড়া চাল সহ প্যাকেজ আকারে দিচ্ছে। ফলে তেল কম পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে।খুচরা বিক্রয়ের সময আমাকে প্যাকেজ আকারে বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। তেলের সরবরাহ কম থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাটবাজারে এখনও ২০০ টাকা কেজি দরে সয়াবিন বিক্রি হলেও বিরামপুরে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি
বিরামপুরে উধাও সয়াবিন তেল, কেজিতে বাড়তি ২৫ টাকা গুনছেন ক্রেতারা
মার্চ ১১, ২০২৬


































