বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার ‘চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রধান ফটকে ১১ দিন ধরে তালা ঝুলছে। এতে পণ্য রপ্তানি, সদস্য নবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ জুন হঠাৎ করেই কিছু ছাত্র-জনতা এসে চেম্বারের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি খায়রুল বাসারের ভাগ্নে, আকবরিয়া গ্রুপের কর্ণধার ও চেম্বারের সাবেক পরিচালক হাসান আলী আলালের অনুসারীরাই মূলত এই দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িত। যদিও আলাল তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
চেম্বার সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী একটি পক্ষ চেম্বারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সাবেক সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মাসুদার রহমান মিলন বিনা ভোটে সভাপতির দায়িত্বে আসেন। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে মিলনের আত্মগোপনের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান জ্যেষ্ঠ সদস্য সাইরুল ইসলাম।
এরপর থেকেই শুরু হয় চেম্বারের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন। ভোটের দাবিতে একটি অংশ রাস্তায় নামলে, চলতি বছরের ২১ জুন গঠিত হয় তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তার পরদিনই তালা দেওয়া হয় চেম্বার ভবনে।
চেম্বারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানিয়েছেন, পণ্য রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত ২৮ জুন তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হাসান জুট মিলের ব্যবস্থাপক সানাউল হক বলেন, “চেম্বার বন্ধ থাকায় এখন আমাদের প্রতিটি অরিজিন সার্টিফিকেট ঢাকায় গিয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে করে প্রতি সার্টিফিকেটে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যেখানে বগুড়া চেম্বারে লাগত মাত্র ৫০০ টাকা।আরেক সদস্য আজিজ আহম্মেদ রুবেল বলেন, “আমি কয়েকদিন ধরে সদস্য নবায়নের জন্য ঘুরছি, কিছুই করতে পারছি না। সবকিছু বন্ধ।”
চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাইছিলাম একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। কিন্তু তাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান রানু বলেন, “আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই চেম্বারে তালা দেওয়া হয়েছে। এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি।”
এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হাসান আলী আলাল দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বা আমার লোকেরা চেম্বারে তালা লাগাইনি।”
ভিপি খায়রুল বাসার বলেন, “আলাল আমার ভাগ্নে, কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবে যুক্ত নই।”তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলন নামের সংগঠনের সদস্য সচিব সাকিব খান বলেছেন, “আমাদের সংগঠনের কেউ চেম্বার দখল করতে যায়নি।”
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়া চেম্বার ভবন ১১ দিন ধরে বন্ধ কারা তালা দিয়েছে জানেনা কেউ
জুলাই ২, ২০২৫
































