বগুড়া ব্যুরো ও শাজাহানপুর প্রতিবেদক :
বগুড়ার শাজাহানপুরে ১২টি হাট বাজার খাস আদায়ে উন্মুক্ত ডাক দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত ডাক দেয়ার ফলে সরকারের ৮০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আর এই উন্মুক্ত ডাকে াংশ নিয়েছে শুধুমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারাই হাটগুলোর ইজারা পেয়েছে। এই ডাকে অন্য কাউকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। যদিও নাছির উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী হাট ডাকে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু তাকে আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে মারপিট করে তাড়িয়ে দিয়েছে বিএনপির কিছু কর্মী। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে খাস আদায়ে এই উন্মুক্ত ডাক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীর পাশাপাশি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারিসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় বাংলা ১৪৩২ সালের হাট বাজার ইজারায় ১২টি হাট বাজার খাস আদায়ে উন্মুক্ত ডাক ব্যবস্থা করেন। গত ৩ বছরে হাট বাজার ইজারার গড় টাকার ৬পার্সেন্ট বৃদ্ধি ধরে স¤প্রতি নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা দরপত্র আহŸান করে উপজেলা প্রশাসন। তবে হাট বাজারের দর বেশি হওয়ায় ১২টি হাটের কোন দরপত্র তখন জমা হয়নি। শৃঙ্খলভাবে রাজস্ব আদায়ে খাস ডাকের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে এতে গত বছরের গড় তুলনায় রাজস্ব কম হয়েছে ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৬ টাকা।
গতবছরে হাট বাজার নিলাম থেকে পাওয়া সরকারি রাজস্বের তুলনায় এবাবে খাস আদায় ডাকে পাওয়া রাজস্ব প্রায় অর্ধেক। তবে হাটের ইজারা মূল্য কমায় খাজনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষক এবং হাটের ব্যপারীরা।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) অফিস সুত্রে জানা যায়, গত বছরে আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাট ইজারা সরকার পেয়েছিলো ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩৫টাকা। এবারে ওই হাটের খাস আদায়ে ডাক হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ওই ইউনিয়নের আড়িয়া বাজার থেকে গত বছর সরকার পেয়েছে লাখ ৩১ হাজার ৪৮৭টাকা। এবারে খাস ডাকে সরকার পেয়েছে ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এই দুটি ডাক পেয়েছেন বিএনপি নেতা শাহাদত হোসেন।
একইভাবে খরনা ইউনিয়নের টেংগামাগুর হাট গতবছর ডাক ছিল ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৭০৮টাকা। এবারে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ টাকায় খাস ডাক পেয়েছেন আল আমিন বাবু। একই ইউনিয়নের খরনা হাট গত বছরে ডাক ছিল ১২ লাখ ৩৩ হাজার ২১১ টাকা। এবারে এনামুল নামের বিএনপি নেতা খাস ডাক পেয়েছেন ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। খরনা ইউনিয়নের বীরগ্রাম হাট গত বছর ছিলো ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা। এবারে তা খাস ডাকে বিএনপি নেতা ফারুক আহম্মেদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকায়। ওই ইউনিয়নের দাড়িগাছা হাট গত বছর ছিলো ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৩ টাকা। এবার সেই হাট খাস ডাকে বিএনপি নেতা শাহাদত হোসেন পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায়।
গোহাইল ইউনিয়নের আতাইল হাট গত বছর ছিল ৩১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৪ টাকা। এবারে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ১৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকায়। ওই ইউনিয়নের গোহাইল হাট গত বছরে ছিল ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৩ টাকা। এবারে বিএনপি নেতা আতাহার আলী পেয়েছেন ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়। একই ইউনিয়নের রুপিহার হাট থেকে গতবছর সরকার পেয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ২৪১ টাকা। এবারে বিএনপি নেতা শাহাদৎ হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার টাকায়।
চোপিনগর ইউনিয়নের শাহনগর হাট গত বছরে ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৬২৮টাকা। এবারে গোলাম মোস্তফা বাবু পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৫শ টাকায়। একই ইউনিয়নের কামারপাড়া হাট থেকে গত বছরে ছিল ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৫ টাকা। এবারে পেয়েছেন এইচ এম শফিক পেয়েছেন ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায়।
আমরুল ইউনিয়নের নগর হাট গত বছর ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ২৮৮ টাকা। এবারে বিএনপি নেতা সাজেদুল হক পেয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার হাট বাজার থেকে রাজস্ব কম আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৬ টাকা। তবে খাস ডাক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেকেই। খাস ডাকতে এসেও নিজ দলের নেতা কর্মীদের বাঁধার মুখে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকেই। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তাঁরা।
শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) জান্নাতুল নাইম এ বিষয়ে বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হাট বাজারগুলো খাস কালেকশনের জন্য উন্মুক্ত ডাক দেয়া হয়েছে।
হাট বাজার ডাকতে এসে মারপিটের শিকার হওয়া নাছির উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, আমি গোহাইল ইউনিয়নের আতাইল হাট ডাকার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলাম। ডাক দিয়েও ছিলাম কিন্তু সেখানে থাকা লোকজন আমাকে আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে মারপিট করে বের করে দেয়। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোন দিন করিনি। যারা আমাকে মেরেছে তাঁদের সঙ্গে আমার পূর্ব কোন বিরোধও নেই।
চোপীনগর ইউনিয়নের সবজি ব্যাপারী আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে বলেন, হাটের ইজারা মূল্য কম হলে খাজনাও কম হওয়ার কথা। কিন্তু খাজনা যদি আগের মতই বেশি নেয়া হয় তাহলে পণ্যের মূল্যও বেড়ে যাবে। তাই হাটগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































