বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় দুই যুগ ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার। এর মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ আগামীকাল রোববার (১২ জানুয়ারি) সরেজমিনে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন তারা। বিমানবন্দরটি চালু করতে ১২শ কোটি টাকা প্রয়োজন। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর এতে করেই আশায় স্বপ্ন বুনছেন বগুড়ার ৪০ লাখ মানুষ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভ‚ঁইয়া রোববার বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রোববার বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছি। চালু করতে পারলে সেটা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে। পরিদর্শন করার পর সবাই মিলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, রোববার বিমান মন্ত্রণালয়, বিমানবাহিনী প্রধান ও বেবিচক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করবেন। এটা চালু করার জন্য আরও জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। শুরুতে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চালুর কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৮৭ সালে। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে। এরপর ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে এখানে বিমানবন্দর স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এ জন্য ২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। ১৯৯৫ সালে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে ১০৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে, কার্যালয় ভবন ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে। প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০০০ সালে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে বিমান আর ওড়েনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জানা গেছে, এর আগে বিগত সরকারের আমলে বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে বেবিচক। বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর প্রস্তাবনার আলোকে সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদনসহ মতামত দিতে বলা হয় কমিটিকে। কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেন। কিন্তু সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। এবার সেটিও আমলে নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচলের জন্য নব্বইয়ের দশকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় প্রায় ১১০ একর জায়গাজুড়ে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দর নির্মাণে খরচ হয় ২২ কোটি টাকা। কিন্তু ২৪ বছরেও বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরের কাজ সম্পন্ন করলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু না করে বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আয় এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের সুবিধার্থে বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দরটি চালু করার সুপারিশ করেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ার বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রতিনিধি দল আসছে আগামীকাল রোববার (১২ জানুয়ারি) আশায় স্বপ্ন বুনছেন ৪০ লাখ মানুষ
জানুয়ারি ১১, ২০২৫


































