দৈনিক আমন্ত্রণ, বগুড়া :
বগুড়ার শাজাহানপুরে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তারা মারা যান। মৃতরা দুইজন হলেন- নন্দীগ্রাম উপজেলার নিম গ্রামের হেফজুল মিঠু (৪০) ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৩৫)। তারা শাজাহানপুরের আড়িয়াবাজার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। হেফজুল তার ভায়রা জুয়েল হাসানের সঙ্গে বগুড়া শহরের আশপাশে গাছ কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
মৃত দম্পতির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে। তাদের স্বজনেরা জানান, প্রায় একযুগ আগে নন্দীগ্রামের হেফজুলের সঙ্গে শাজাহানপুরে প্রাণবাড়িয়া গ্রামের আফরোজার বিয়ে হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান ছিল না। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মায়েশিয়াতে প্রবাস জীবন কাঁটান হেফজুল। করোনা মহামারিতে সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরেন তিনি। এরপর শাজাহানপুরে টিনশেড বাড়ির দুই কক্ষ ভাড়া নিয়ে ভায়রা জুয়েল হাসানের সঙ্গে গাছের ব্যবসা শুরু করেন।
স্থানীয় ফোকাস সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে হেফজুল সম্প্রতি দেড় লাখ টাকা ঋণও নিয়েছিলেন। তবে সেই টাকা পরিশোধ নিয়ে কোনো চাপ ছিল না তার। প্রায় তিন মাস আগে তার স্ত্রী আফরোজা হৃদরোগে আক্রান্ত শজিমেক হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়াও তার ডায়াবেটিসের সমস্যাও ছিল।
বাড়িওয়ালা শফিকুল ইসলাম জানান, হেফজুল তার স্ত্রীকে নিয়ে দুই বছর আগে তার বাড়ি ভাড়া নেন। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে থাকতেন, কখনও তাদের মধ্যে ঝগড়া দেখিনি। আজ সকালে হেফজুলকে আড়িয়াতে বাজার করে বাড়ি ফিরতে দেখি। এর কিছুক্ষণ পর আমার মেয়ে মুঠোফোনে জানান, হেফজুল ও আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখি তারা ছটফট করলেন। কোনো কথা বলতে পারছেন না। এ সময় আফরোজার বোন শিমুর সহযোগিতায় তাদের শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এখন এর মধ্যে তাদের মধ্যে কি যে হয়েছে, তা জানি না।
হেফজুলের ভায়রা জুয়েল হাসান জানান, আফরোজার সঙ্গে হেফজুলের প্রায় এক যুগ আগে বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তিনি গাছের ব্যবসা করেন। মাঝে প্রবাসে ছিলেন। আজ সকালেও তিনি মুঠোফোনে আমাকে শহরের পুলিশ লাইনসে গাছ কাটার চুক্তির কথা জানান। এরপর খবর আসে তারা হাসপাতালে। খবর পেয়ে সেখানে গেলে দুজনকেই মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।
জুয়েল হাসান আরও বলেন, ব্যবসায়িক কাজে কিছু ঋণ থাকলেও আর্থিকভাবে কোনো চাপ ছিল না। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান না থাকলেও দুইজনের সম্পর্ক ছিল খুবই নিবিড়।
মৃত আফরোজার বোন শিমু বেগম বলেন, সকালে বোনের ছটফট করার খবর পেয়ে এসে দেখি, দুলাভাইয়েরও একই অবস্থা। তারা পাগলের মতো ছটফট করছিলেন। কিছু খেয়েছেন কি-না জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কি থেকে কি হলো কিছু বুঝতেছি না। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতাম।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আজ সকালে দুইজন রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী। তাদের মৃত্যু রহস্যজনক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিষপান করে মারা গেছেন এটা বলা সম্ভব না। কারণ চিকিৎসা দেওয়াই সম্ভব হয়নি। কিন্তু মৃত্যুর আগে তারা দুজনই ছটফট করছিলেন। তাদের মৃত্যুর লক্ষণে আত্মহত্যার ধারণা করা যায়। এ বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আর পুলিশ স্থানীয়ভাবে ঘটনা জানার চেষ্টা করছে।


































