বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়া সদরের গোকুল তমিরুননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষকের বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার (১৪ মে) বিদ্যালয়ের সামনে (ঢাকা-রংপুর) মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।
এসময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই কোচিংয়ে পড়ানোর নামে ছাত্রীদের ডেকে বাড়িতে নিয়ে যৌন হয়রানি করে আসছেন। প্রকাশ্যে ছাত্রীর হাত ধরে বিদ্যালয়ে চলা ফেরা করে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার অভিযোগ করলে বিদ্যালয়ের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি সুষ্ঠ তদন্ত না করে যৌন হয়রানির ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করে।
এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। অভিযুক্ত শিক্ষক যৌন নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা নিরাপদ নয় বলে জানানা তারা। এঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চান বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মাহমুব মোরশেদ, একাডেমিক সুপারভাইজার জিয়ার রহমান, প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আলম পিলু, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, ইউপি সদস্য রেজাউল করিম টুলু।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্ত্যু করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ দফা দাবি জানান তারা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্রীরা একই অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিভাবকেরা বলেন “লেখাপড়া শেখানোর জন্য এত টাকা-পয়সা খরচ করে যাদের কাছে আমরা ছেলে-মেয়েদের পাঠাচ্ছি, তারাই যদি এমন কাজ করে তাহলে আমরা কোথায় যাব। এমন ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা । যেন এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।
এব্যপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক পলাতক রযেছে। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, ছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন আশ্বস্ত করে প্রশাসনও। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। পুলিশ এসে সড়কের যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক রাখে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































