বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় সবজি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার মাঠে নেমেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে সবজি সংগ্রহ করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি শুরু করেছেন তারা। অনেকটাই কম দামে বিক্রি করায় এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে শহরের সাতমাথায় মুক্তমঞ্চে সবজির এই বাজার শুরু করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বগুড়া শহরের সাতামাথায় মুক্তমঞ্চে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকবে এই সবজির বাজার। বাজারে কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি বিক্রি করা হবে এখানে। একজন কৃষক চাইলে সরাসরি সবজি এনেও নির্ধারিত দামে সবজি বিক্রি করতে পারবেন।
ন্যায্যমূল্যের এ বাজার বসতে না বসতেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই তাদের প্রয়োজনীয় সবজি কিনছেন বাজার থেকে অনেক কম দামে। বিশে করে নারী ক্রেতা ভিড় করছেন বেশি।
আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) মুক্তমঞ্চের এই সবজি বাজারে টাঙ্গিয়ে রাখা মূল্য তালিকা অনুযায়ী মঙ্গলবার এ বাজারে বেগুন ৪০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা কেজি, পটল ৪০ টাকা কেজি, মূলা ২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১১০ টাকা কেজি ও পেঁয়াজ ১০৫ টাকা সিম ১১০চাকা মিষ্টি লাউ ৪২টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যের এ বাজারে ধনিয়া পাতা, করলা, লাউ, বরবটিসহ আরও অনেক সবজি বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করা হয়েছে।
বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার গৃহবধূ নাজনীল আক্তার বলেন, ছেলেকে স্কুলে দিয়ে এখান থেকে ন্যায্যমুল্যে সবজি কিনে নিয়ে বাড়ি যাই। এই বাজারে দামাদামির কোনো বিষয়টি নেই। ফতেহ আলী বাজারের চেয়ে স্বস্তিভরে বাজার করতে পারি।
শহরের নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী আজমল কবির চা খেতে এসে দেখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সবজির দোকান। এখান থেকে মিষ্টি লাউ কেনেন ৪২ টাকা কেজি দরে। অথচ বাজারে এই লাউয়ের কোজি ৬০ টাকা। তাই এখান থেকেই দুটি লাউ কিনলাম।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ বাজারে ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া পেলে শহরের উন্মুক্ত কোনো স্থানে স্থায়ী রূপ দেওয়া হবে বাজারটিকে। যেখানে কৃষক তার সবজি সরাসরি ভোক্তার কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ পাবে। এতে করে সিন্ডিকেট ভেঙে সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তারা জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































