প্রদীপ মোহন্ত, দৈনিক আমন্ত্রণ, বগুড়া অফিস :
বগুড়া শহরের মালতিনগরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি বসতবাড়ির তিনটি ঘর ও সীমানা প্রাচীর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিস্ফোরনে দগ্ধ এবং দেয়াল চাপা পড়ে নারী ও কিশোরীসহ ৪ জন গুরুতর হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বুশরা নামের এক কিশোরীকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই বাড়ির একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে আতশবাজি ও পটকা তৈরি করা হচ্ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ ও বাড়ির মালিক রেজাউল করিমকে আটক করেছে। তার নামে অবৈধভাবে পটকা তৈরির অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শাহিনুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত রবিবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বগুড়া শহরের মালতিনগর শ্মশান রোডে মোল্লা পাড়ায় রেজাউল করিমের টিনশেড বাড়িতে বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণে আহত ৪ জন হলেন- বাড়ির মালিক রেজাউল করিমের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা (৪০), মেয়ে সুমাইয়া আকতার (১৫), রেজাউলের ভাই রাশেদুল ইসলামের মেয়ে জিম আক্তার (১৬) ও তাদের প্রতিবেশী আলী হোসেনের মেয়ে তাসনিম বুশরা (১৪)।
প্রত্যক্ষদশীরা জানান, রবিবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে মালতিনগর এলাকায় বিকট শব্দে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের কারণে এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে দেখেন রেজাউল করিমের বাড়ির তিনটি ঘরের দেয়াল বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের টিনের চাল উড়ে আরেক স্থানে গিয়ে পড়ে আছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
বাসার মালিক রেজাউল করিম ঘটনার পরপরই জানান, তিনি ও তার ভাই রাশেদুল একই বাড়িতে থাকেন। তাদের দুই ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী মেয়েটির ঘনিষ্ঠতা হওয়ায় তারা একই সঙ্গে গল্প করছিলো। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে তারা ৩জন এবং তার স্ত্রী আহত হন।
প্রত্যক্ষ দর্শী আতিকুর রহমান ইউসুফ বলেন, প্রচÐ রকম এক বিষ্ফোরণের শব্দে এলাকা কেঁপে উঠে। বেরিয়ে দেখি রেজাউলের বাড়ির চাল উড়ে গেছে। তার স্ত্রীসহ চারজন মেয়ে বাড়ির টিন ও আসবাবপত্রের নিচে চাপা পরে আছে। সেখানে উপস্থিত মানুষদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সাকিব আল হাসান নামে আরেক প্রতিবেশি বলেন, বিষ্ফোরণের শব্দ পেয়ে এখানে এসে দেখি বিধস্ত অবস্থা। বাড়িটিতে রেজাউল ও রাশেদুল দুইভাই মিলে অবৈধভাবে পটকার কারখানা চালাতো। সেখান থেকে বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পটকা তৈরির কাঁচামাল থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ওই বাসভবনে থাকা তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারই তারা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।
স্থানীয়রা আরো জানান, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আতশবাজি ও পটকা তৈরি করা হচ্ছিল। বাড়িটি পটকা তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত। রেজাউলের বাড়ি ছাড়াও মালতিনগর এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে পটকা তৈরি হয় দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার বলেন, দুই বছর আগে মালতিনগর এমএস ক্লাব মাঠ এলাকায় একটি বাড়িতে পটকা তৈরির সময় বিস্ফোরণে শচিন নামের এক ব্যক্তি মারা যায়। তারও ১৫ বছর আগে মালতিনগর এলাকায় পটকা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন মারা যান।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপর বাড়ির মালিক রেজাউল করিমকে আটক করা হয়। তিনি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বললেও সেখানে পটকা তৈরির সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। সকল আলামত জব্দ করা হয়েছে।
বগুড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও বাড়ির মালিক রেজাউল করিমকে আটক করেছে। তার নামে অবৈধভাবে আতশবাজি ও পটকা তৈরির অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
বগুড়ায় পটকা তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে বাড়ী বিধ্বস্ত, চারজন আহত পটকা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ, বাড়ির মালিক আটক, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছে পুলিশ
মে ১, ২০২৪


































