বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে। দিনভর সূর্যের সঙ্গে মেঘের লুকোচুরি হয়েছে। দিনের বেলায় মেঘ ঢেকে রাখায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শীত বাড়ায় শিশু ও বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীতজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তখন তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এ জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। হাড় কাঁপানো শীত থাকবে জানুয়ারি মাসজুড়ে।’
তিনি আরও জানান, ঘন কুয়াশা আর হিমবায়ুর কারণে বেশি শীত অনুভ‚ত হচ্ছে। আকাশে হালকা মেঘ রয়েছে। সেই সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভ‚পৃষ্ঠে সূর্য তার তীব্রতা ছড়াতে পারছে না। এ জন্য তাপমাত্রা কমে গেছে। এ মাসে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। ফলে শীত বেশি অনুভ‚ত হবে।
পরিবহন চালকরা জানান, কুয়াশার কারণে দুই হাত পর পর দেখা যায় না এ কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ধীরগতিতে চলাচল করতে গিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নি¤œ আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা জানান, কাজ না করলে খাওয়া নেই, তাই যত শীত হোক বের হতেই হবে, তবে এখন বাতাস আর কুয়াশা থাকার কারণে কষ্ট হচ্ছে, এখনো কেউ শীত বস্ত্র নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াইনি বলে জানিয়েছেন নির্মাণ শ্রমিকসহ দিনমজুররা।
এদিকে শীত বেশি হওয়ায় স্টেশন, সড়ক বিভাজন, ফুটপাত ও খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট বেড়েছে। এছাড়া বাসাবাড়িতে নি¤œ আয়ের মানুষ বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকে শীতজনিত সর্দি, কাশি, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মার্কেট ও ফুটপাতে শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা শীতবস্ত্রের দামও বৃদ্ধি করেছেন। এত দরিদ্র শীতার্তদের ভোগান্তি বেড়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































