চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও হিরেন্দ্রনাথ বর্মন হিরু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে লোহার পণ্য ঢেউটিন, এ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, সিট, স্টিলের পাতি, লোহার তৈরি দরজা ও জানালা প্রভৃতি দোকান থেকে অথবা ওয়ার্কশপ থেকে অরক্ষিতভাবে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। লোহার পণ্য অরিক্ষিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিবহন করা হলেও নজরদারি নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।
উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আকবর আলী (৭০) সাত আগে পার্শ্ববর্তী মাদিলাহাট থেকে সন্ধ্যায় বাড়ী ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ভ্যানের নতুন ঢেউ টিনের আঘাতে তার ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা সিএমএইচএ’তে চিকিৎসা শেষে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। পঙ্গুত্ব জীবন নিয়েই আকবর আলী ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান।
সেনা কর্মকর্তা আকবর আলীর ছেলে তৈবুর রহমান লাইজু বলেন, পিতার এমন দুর্ঘটনার জন্য পুরোপরিবারটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর যেন কেউ এমন দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনী আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলার ফুলবাড়ী হাট, মাদিলাহাট, আটপুকুরহাট, বারাইহাট, পুখুরিহাট, খয়েরবাড়ী হাট, মেলাবাড়ীহাট, পার্শ্ববর্তী আমবাড়ীহাট, আফতাবগঞ্জহাট, ভবানীপুরহাট থেকে প্রতিদিন ঢেউটিন, এ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, স্টিলের সিট, স্টিলের পাতি, লোহার দরজা, জানালা কেনাবেচা এবং ওয়ার্কশপে তৈরি শেষে অরক্ষিত ঝুঁকিপূর্ণভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় রিকশাভ্যান ও ভ্যানগাড়ীতে সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দিয়ে পরিবহন করে থাকছে। এসব লোহার সরঞ্জাম ভ্যানগাড়ীতে স্থানসংকুলান না হওয়ায় গাড়ীর আয়তন থেকে ছাড়িয়ে যায়। ফলে এমনভাবে প্রসারিত রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা ঘটিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে এসব গাড়ীর চালকরা।
উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের শিক্ষক বাদশা হোসেন বলেন, গত বছরের ১লা বৈশাখের দিন সন্ধ্যায় বাড়ী ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে এক ভ্যান চালক ভ্যানভর্তি নতুন ঢেউটিন নিয়ে অরক্ষিতভাবে পরিবহন করার এক পর্যায়ে কাছাকাছি টিনের ভ্যান আসতেই দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তা থেকে পার্শ্বের পুকুরে মোটরসাইকেল নামিয়ে দেন। মোটরসাইকেল পুকুরে না নামালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতেন বলে তিনি দাবি করেন।
পৌরশহরের টিন ও এ্যাঙ্গেল বিক্রেতা মেহের এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফিরোজ চৌধুরী, শাহীন ট্রেডার্সের শাহিনুর রহমান, হেরা ট্রেডার্সের টুটুল হোসেন, মা ট্রেডার্সের অরুণ গুহ বরেন, টিন, এ্যাঙ্গেলসহ লৌহজাত দ্রব্যাদি কেনার সময় ক্রেতাকে পরিবহনের সময় দৃশ্যমান লাল কাপড় অথবা বস্তা দিয়ে ঢেকে সাবধানে পরিবহন করতে বলার পরও কেউ কথা শুনে না।
ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম অনসারী ও সদস্য সচিব মো. মানিক মন্ডল বলেন, যেহেতু লৌহজাত পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক। এগুলো সুরক্ষিতবাবে পরিবহন যাতে করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেয়া দরকার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব লোহার মালামাল অরক্ষিতভাবে পরিবহনের ফলে প্রতিনিয়িত ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার শিকার রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন চিকিৎসা নিতে।
সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, লৌহজাত পণ্য (ঢেউটিন, এ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, স্টিলের সিট, স্টিলের পাতি, লোহার দরজা-জানালা) দোকান থেকে ক্রয় এবং ওয়ার্কশপ থেকে অরক্ষিতভাবে পরিবহন করা যাবে না। ধারালো অংশ অবশ্যই ঢেকে নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ঢেউটিন, লোহার এ্যাঙ্গেল- বার-সিট এসব মালামাল উন্মুক্ত পরিবহন করা খুবই ঝুকিপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। কিছু ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সতর্ক করে দেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি


































