রীতা রানী কানু :
রমজানের শেষ মুহূর্তে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুরোদমে চলছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের আনন্দে মাততে ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউ পিছিয়ে নেই কেনাকাটায়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা ছুটছেন ফুটপাত থেকে শুরম্ন করে ছোট-বড় মার্কেট ও বিপণী বিতানগুলোতে। এতে করে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছে ফুলবাড়ীর ঈদ বাজার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৌরশহরের ফুটপাত থেকে অভিজাত শপিংমল পর্যন্ত সবখানে চলছে কেনাকাটা। প্রতিটি মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। যেন নিশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছেন না তারা।
শহরের দয়াল মার্কেট, খন্দকার মার্কেট, ঐতিহ্যবাহী বাজার কাপড়পট্টি, মন্ত্রী মার্কেট, ভূমি অফিস সংলগ্ন গামার গলির হকার্স মার্কেট, ফুটপাত মার্কেটসহ সব কয়কটি মার্কেট ক্রেতাদের জমজমাট ভিড় দেখা গেছে। তবে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার জন্য পরিচিত ভূমি অফিস সংলগ্ন গামার গলির হকার্স মার্কেটে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী ও পুরম্নষের ভিড় লেগেই আছে। আর যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের ভরসা এখন ফুটপাত। এর ফলে বেচাকেনার কমতি নেই কোথাও।
কয়েকজন পোশাক বিক্রেতা জানান, সকাল ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত প্রচুর লোকের সমাগম হচ্ছে মার্কেটগুলোতে। ক্রেতারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট ও প্যান্ট, জুতা, স্যান্ডেল, পাঞ্জাবিসহ অন্যান্য জিনিস কিনছেন।
পোশাক বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জামদানি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, মেয়েদের পাগলু, বিপাশা বসু, জান্নাত-টু, আশিকী-২, জিপসি ৩৫০ থেকে ১১ হাজার টাকা, ছেলেদের কার্গো জিন্স, থাই, ডিসকার্ড-২, সিম ফিট, ফরমাল টি-শার্ট ৭৫০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ছোটদের লেহেঙ্গা, মাসাক্কালী, সিঙ্গেল টপ, টপসেট, গেঞ্জিসেট ১ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, পাঞ্জাবির মধ্যে বড়-ছোটদের ধুতি কাতান, ৩৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার এবং আকর্ষণীয় শেরওয়ানি ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে বাজারে এসেছে ছেলেদের বাহুবলি, বজরঙ্গী ভাইজান ও রইস পাঞ্জাবি। এদিকে ক্রেতারা জানান, নতুন কাপড়ের চাহিদা বেশি এবং দামও বেশি। তবে এবার অত্যাধিক গরমের কারণে ছেলেদের পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট বিক্রি বেড়েছে।
বাজার কাপড়পট্টি মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আশফাকুল ইসলাম বলেন, গত বছর ঈদের আগে যে পোশাক দেড় হাজার টাকায় পাওয়া গেছে, এবার সেই একই মানের পোশাকের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কোনো কোনো কাপড়ের ক্ষেত্রে আবার তিনগুণ দাম ধরা হচ্ছে। উপজেলার মেলাবাড়ী গ্রামের ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাবা-মায়ের জন্য নতুন কাপড় কিনতে এসেছেন। দাম বেশি হলেও বাবা-মার জন্য ভালো পোশাকটাই কিনবেন।
দয়াল মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা সুজাপুর এলাকার শাহানাজ আক্তার বলেন, গত দুইদিন আগে যে থ্রি-পিস কিনেছেন দেড় হাজার টাকায়, এখন সেই দোকানদার একই থ্রি-পিসের দাম চাচ্ছেন তিন হাজার টাকা। ২ হাজার টাকাতেও থ্রি-পিসটি দিলেন না। বরং তারাই বলছেন, এখন না নিলে কয়দিন পর এটি চার হাজার টাকায় নাকি কিনতে হবে।
ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রমজানের শুরম্নতে বেচাকেনা খুব একটা না হলেও কয়েক দিন ধরে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন এজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, জনগণকে যেন ন্যায্যমূল্যের চেয়ে অধিক দামে কোথাও পণ্য কিংবা কাপড় কিনতে না হয়, সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর যদি কোথাও ন্যায্যমূল্যের চেয়ে অধিক দামে কেউ পণ্য বিক্রি করেন, সেক্ষেত্রেও তার বিরম্নদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুলবাড়ী ঈদ বাজার, দাম চড়া তবুও কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড়
এপ্রিল ১০, ২০২৪
































