আমন্ত্রণ ডেস্ক :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মেয়াদোত্তীর্ণের ৫-৬ বছর অতিবাহিত হলেও সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না দুই সহ¯্রাধিক ইন্সুরেন্স গ্রাহক। নিজের সঞ্চিত ও মুনাফার টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা পড়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের সঞ্চিত কয়েক কোটি টাকা না দিয়ে ফুলবাড়ী শাখা অফিসের কর্মকর্তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার বেশ কয়েকজন গ্রাহককে তাদের সঞ্চিত অর্থের ব্যাংক চেক দেওয়া হলে, সেই চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় টাকা তুলতে পারেননি অনেকে।
জানা যায়, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ফুলবাড়ী শাখা অফিস থেকেই ফুলবাড়ীসহ পার্বতীপুর, বিরামপুর, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর সদর, বিরল, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, আমবাড়ী ও দাউদপুর এলাকার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলার কাজীহাল ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের ভুক্তভোগী বীমা গ্রাহক রিকশাভ্যান চালক আব্দুল কাদের বলেন, তার বীমার পলিসি নং ০৫৯৩৩৮২-৩। ২০০৯ সালে বছরে ছয় মাস অন্ত দু’টি কিস্তি এক হাজার ১০০ প্রদান সাপেক্ষে ১২ বছর মেয়াদী একটি পলিসি খুলেন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ফুলবাড়ী শাখা অফিসে। পরিসিটি ২০২১ সালে পূর্ণ হয় এবং এতে মোট সঞ্চয় জমা হয় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা। তার জমাকৃত সঞ্চিত ও মুনাফার অর্থের জন্য নিজের আয় রোজগারের কাজকর্ম ফেলে ১৮ কিলোমিটার দূরর বাড়ী থেকে মাসে তিন থেকে চারবার ধর্না দিতে হচ্ছে ইন্সুরেন্স অফিসে। টাকার জন্য অফিসে আসলে তার সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দুর্ব্যবহারও করে থাকছেন। টাকাটা পেলে তার ঋণ-দেনা পরিশোধ করতে পারতেন।
অপর ভুক্তভোগী উপজেলার রাধানগর গ্রামের গৃহপরিচারিকা জাহানারা বেগম বলেন, তার পলিসি নং ০৫৭৭৮৫৯-৫। অন্যের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা চলে তার। ২০১০ সালের ২৭ জুন তারখে তিনি একটি বীমা পলিসি খোলেন। নির্দিষ্ট অংকের অর্থ জমা দেওয়ার পর ২০২২ সালে তার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন বছর হচ্ছে সঞ্চিত ও মুনাফার অর্থ ফেরতের জন্য মাসে চার-পাঁচ বার বীমা অফিসে ধর্না দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। তবে প্রতিদিনই গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ফুলবাড়ী শাখা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের গ্রাহক চেক পাবেন ১০ থেকে ১৫জন, ২০২০ সালে ৭০ থেকে ৭৫জন, ২০২১ সালে ৩০০ থেকে ৩৫০জন, ২০২২ সালে ৪শতাধিক জন, ২০২৩ সালে ২ শতাধিক জন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শতাধিক জন। এই হিসেবটি ইন্সুরেন্স অফিসের হলেও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ টাকা পাবেন দুই সহ¯্রাধিক গ্রাহক।
ভুক্তভোগী বীমা গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন, লোকমান আলী পলিসি নম্বর০৩১৫১৮৮-৬, খাদিজা খাতুন পলিসি নম্বর-০৫৯৩৩২২-৫, হাফিজুর রহমান পলিসি নম্বর-০৫৯৩০৫৮-৮, সৈয়দ ইমাম হাসান পলিসি নম্বর-০৫৯৩২২৮-৮, অশোক কুমার হালদার পলিসি নম্বর-০৪৬৫৮৫৯-৪, শরিফা খাতুন পলিসি নম্বর-০১৯৯৮৪৪-৬, মো. মোহন পলিসি নম্বর-০১৯৯৯২২-৫, মো. সোহরাব হোসেন পলিসি নম্বর-০৩০৭১৬৭ -২, মো. আরজুল হক পলিসি নম্বর-০৩০৭১২২-৫, লুৎফর রহমান পলিসি নম্বর- ০৩০৬৮৯২-০, মো. আনোয়ার হোসেন পলিসি নম্বর-০৩০৬৮৯১-০, মোছা. পারভিন বেগম পলিসি নম্বর-০৩০৭২১৩-৩, মুশফিকুর রহমান পলিসি নম্বর-০৫৮৫২৮৪-৪, এনামুল হক পলিসি নম্বর-০৫৮৫২৭২-২, আব্দুল কাদের পলিসি নম্বর-০৫৯৩৩৮২-৩, সাইফুল ইসলাম পলিসি নম্বর-০৫৯৩৩৮১-৫, জাহানারা বেগম পলিসি নম্বর-০৫৭৭৮৫৯-৫ প্রমুখ।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ফুলবাড়ী শাখার জিএম ও ইনচার্জ মো. আনিছুর রহমান বলেন, করোনা মহামারীর পর থেকে প্রায় ১৮ মাস অফিস বন্ধ থাকায় অনেক গ্রাহকের মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। পর্যায়ক্রমে পাওনাদার গ্রাহকদের মাঝে চেক প্রদান করা হলেও এক হাজার ১০০ জন গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে কথা বললে সেখান থেকে বলা হচ্ছে, হবে, হচ্ছে দিচ্ছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে প্রতিদিনই পাওনাদার গ্রাহকদের সংখ্যা বাড়ছে অফিসে। এ কারণে ঠিকমতো অফিস করতে পারছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসাহাক আলী বলেন, গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে মেয়াদোত্তীর্ণের ৫-৬ বছর অতিবাহিত হলেও সঞ্চিত টাকা ফেরত পাচ্ছেন না দুই সহস্রাধিক ইন্সুরেন্স গ্রাহক
অক্টোবর ৬, ২০২৫


































