অমর চাঁদ গুপ্ত অপু:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পাইকারী ও খুচরা বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। এতে করে পাইকারী বাজারে মাছের দাম আকার ও প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে কমেছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অপরদিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়াসহ সরবরাহ কম হওয়ার অজুহাতে প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা এবং প্রতিকেজি খাসির মাংসের দাম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী ও খুচরা বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ বেশি। তবে সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি হওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে গরু ও খাসির মাংন বিক্রি করছেন।
ফুলবাড়ী বাজারের কয়েকজন মাংস বিক্রেতা বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৭৫ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক বনভোজন শুরু হওয়ায় সব ধরনের মাংসের চাহিদা বেড়ে গেছে। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বর্তমানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গত এক সপ্তাহে পাইকারী বাজারে মাছ আকার ও প্রকারভেদে প্রতি কেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কমে প্রতি কেজি রুই মাছ ২১০ টাকা, মিরগা ২৩০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৫৭৫ থেকে ৭৭৫ টাকা, তেলাপিয়া ২০৫ টাকা, জাপানী রুই ২১৫ টাকা, পাঙ্গাস ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কাপ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে খুচরা বাজারে এগুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি রুই মাছ ২২০ টাকা, মিরগা ২৪০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৫৮০ থেকে ৭৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২১৫ টাকা, জাপানী রুই ২২৫ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সিলভার কাপ ১৪৫ থেকে ১৯০ টাকায়। একইভাবে দেশি মুরগি প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকা, সোনালী মুরগিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩১০ টাকা ও বয়লার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

খাসির মাংস বিক্রেতা লাল মিয়া, মাহাবুব আলম ও আনিসুর রহমান বলেন, চলমান শীত মৌসুমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বনভোজন আর সনাতন ধর্মালম্বীদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য খাসির মাংসের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ বেশি। চাহিদার তুলনায় খাসি ও ছাগলে সরবরাহ কম হওয়ায় বেশি দামে খাসি ও ছাগল কিনতে হচ্ছে। এ জন্য বর্তমানে মাংসের দাম একটু বেড়ে গেছে। একই কথা বলেন স্থানীয় গরুর মাংস বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মাদ আবু জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ কোনো পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড প্রদান করা হচ্ছে।
ফুলবাড়ীতে মাছের দাম কমলেও বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪


































